যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের বেইজিং সফর শেষ হয়েছে। সফরে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠকে মিলিত হন ট্রাম্প। জাঁকজমকপূর্ণ এই সফরে উভয় দেশের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের পাশাপাশি বিভিন্ন স্বার্থ সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীর মধ্যেও বৈঠক হয়। বিশ্বের শীর্ষ ব্যবসায়ী অংশীদার দেশদুটির মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে তীব্র প্রতিযোগিতা চলমান রয়েছে।
সামরিক খাতেও দেশদুটি একে অপরের শীর্ষ প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠছে। এ অবস্থায় ট্রাম্পের এই সফরের ফলাফলে নজর বিশ্ববাসীর।
সীমিত অগ্রগতি, তবে নতুন চুক্তির ইঙ্গিত: বিশ্লেষকদের মতে, দুই দিনের আলোচনায় বড় ধরনের চুক্তি খুব বেশি না হলেও ভবিষ্যতে আরও কিছু সমঝোতা আসতে পারে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ফক্স নিউজে দেয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেছেন, শি জিনপিং যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িং কোম্পানি থেকে ২০০টি বিমান কেনার বিষয়ে সম্মত হয়েছেন। এছাড়া মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, চীন কয়েক বিলিয়ন ডলারের চেয়ে বেশি মূল্যের মার্কিন কৃষিপণ্য কিনতে পারে। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, এসব চুক্তি তুলনামূলকভাবে জটিল নয় এবং প্রাথমিক সমঝোতা, যা বাস্তবায়ন হবে কিনা তা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
চুক্তি টেকসই হবে কি না প্রশ্ন: বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনাপূর্ণ এবং অতীত অভিজ্ঞতা বলছে, ঘোষিত অনেক চুক্তিই পরে ভেঙে গেছে। প্রযুক্তি পণ্য রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ এবং তাইওয়ান ইস্যু এখনো দুই দেশের মধ্যে বড় বিরোধের কারণ। গত বছরের বাণিজ্য উত্তেজনার সময় দুই দেশ আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি শান্ত করলেও পরবর্তীতে আবারও দ্বন্দ্ব শুরু হয়। পরে এক শীর্ষ বৈঠকের মাধ্যমে অস্থায়ী বাণিজ্য বিরতি হলেও তা সময়সীমাবদ্ধ ছিল। শুল্ক পুনরায় আরোপ কিংবা বাতিলের বিষয়ে নতুন কিছু জানা যায়নি।
অতীত অভিজ্ঞতার উদাহরণ: ২০১৭ সালে ট্রাম্পের প্রথম চীন সফরেও দুই দেশের মধ্যে শত শত কোটি ডলারের চুক্তি ঘোষণা করা হয়েছিল। এর মধ্যে ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ায় গ্যাস ও রাসায়নিক প্রকল্পে চীনের ৮৪০০ কোটি ডলারের বিনিয়োগ এবং আলাস্কায় তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস স্থাপনায় ৪৩০০ কোটি ডলারের বিনিয়োগ পরিকল্পনা ছিল। তবে পরবর্তী বছরগুলোতে দুই দেশের সম্পর্কের অবনতি ঘটায় এসব পরিকল্পনার কোনোটিই বাস্তবায়িত হয়নি বলে জানিয়েছেন অর্থনৈতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ক্যাপিটাল ইকোনমিক্সের চীনা অর্থনীতিবিদ লিয়া ফাহি। তিনি বলেন, চলমান ট্রাম্প-শি বৈঠক থেকে যেসব নতুন ঘোষণা আসছে, সেগুলোকেও যথেষ্ট সতর্কতা ও সংশয়ের সঙ্গে দেখা উচিত।