• শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ০১:৩৩ পূর্বাহ্ন
Headline
দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে শপথ নিলেন চট্টগ্রাম-২ আসনের এমপি সারোয়ার আলমগীর নজিরবিহীন বৃষ্টিপাতেও সমন্বিত প্রচেষ্টায় পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে চসিক: মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন ফিরছেন অভিনয়ে সায়ন্তিকা তানজিন তিশা অপেক্ষায়  নতুন করে উত্তেজনা নিজ শহর মাশহাদে দাফন করা হচ্ছে খামেনিকে আলী খামেনির দাফনের আগে নতুন করে হামলা-পাল্টা হামলায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান  তবুও শেষ আটে ইউরোপেরই আধিপত্য :  বিশ্বকাপ বাংলাদেশের বিপক্ষে জিম্বাবুয়ের টি-টোয়েন্টি দলে ফিরলেন নিয়ামুরি-শুম্বা বাংলাদেশের শক্তিশালী অর্থনীতি প্রবৃদ্ধি কিছুটা শ্লথ হলেও স্থিতিস্থাপকতা বজায় রেখেছে: এডিবি পরাজিত শক্তির বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক শক্তিকে সচেতন থাকতে হবে: রাজনৈতিক উপদেষ্টা

 তবুও শেষ আটে ইউরোপেরই আধিপত্য :  বিশ্বকাপ

খেলাধুলা ডেস্ক / ৫ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬

বিশ্বকাপে দলের সংখ্যা ৪৮’এ উন্নীত হওয়ায় আগে তুলনামূলকভাবে কম প্রতিনিধিত্ব পাওয়া মহাদেশগুলোর জন্য সুযোগ বেড়েছে। তবে কোয়ার্টার-ফাইনালের দলগুলোর তালিকার দিকে তাকালেই আবারও ফুটে ওঠে সেই চিরচেনা চিত্র।

শেষ আটে ওঠা আটটি দলের মধ্যে ছয়টিই ইউরোপের। ব্যতিক্রম শুধু বর্তমান চ্যাম্পিয়ন লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা এবং মরক্কো।

ফ্রান্স, স্পেন, বেলজিয়াম, ইংল্যান্ড, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ড এখনও শিরোপার লড়াইয়ে টিকে থাকায় ২০১৮ সালের মতো এবারও সেমিফাইনালে চারটি ইউরোপীয় দলই দেখা যেতে পারে।

গত কয়েক দশকে বিশ্বকাপে ইউরোপের জন্য অংশগ্রহণের সুযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ১৯৯০ সালে ইতালিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে ২৪ দলের মধ্যে ইউরোপের ছিল ১৪টি স্থান, আর এখন ৪৮ দলের আসরে তাদের স্থান ১৬টি।

ফলে বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের প্রতিনিধিত্ব বেড়েছে। যেমন আফ্রিকা এবার ১০টি দল নিয়ে অংশ নিয়েছে, যেখানে ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে তাদের ছিল মাত্র পাঁচটি দল।

কিন্তু টুর্নামেন্ট এখন নকআউট পর্বের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছাতেই আবারও ইউরোপের আধিপত্য স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বরং চার বছর আগের তুলনায় এবার কোয়ার্টার-ফাইনালে ইউরোপীয় দলের সংখ্যা বেড়েছে। তখন এই পর্যাযয় ইউরোপের পাঁচটি দল ছিল, এবার রয়েছে ছয়টি।

ব্যতিক্রম শুধু ২০০২ সালের বিশ্বকাপ, যেখানে কোয়ার্টার-ফাইনালে উঠেছিল মাত্র চারটি ইউরোপীয় দল।
ফুটবলে অর্থনৈতিক শক্তির বড় অংশই ইউরোপে কেন্দ্রীভূত। বিশ্বের অধিকাংশ সেরা ফুটবলার খেলেন ইউরোপের শীর্ষ লিগগুলোতে।

পশ্চিম ইউরোপের ফুটবল একাডেমিগুলোতে সেরা কোচদের তত্ত্বাবধানে গড়ে ওঠে সবচেয়ে প্রতিভাবান তরুণ খেলোয়াড়রা। এর সুফল বিশ্বের আরও অনেক দেশ পেয়েছে।

২০২২ সালে আফ্রিকার প্রথম দল হিসেবে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠা মরক্কো এবারও একমাত্র আফ্রিকান প্রতিনিধি হিসেবে টিকে আছে। তাদের স্কোয়াডের বেশ কযয়েকজন রাজধানী রাবাতের বাইরে অবস্থিত অত্যাধুনিক মোহাম্মদ ষষ্ঠ একাডেমির গড়ে তোলা ফুটবলার।

তবে দলের অধিকাংশ খেলোয়াড়ের জন্ম পশ্চিম ইউরোপে এবং সেখানকার একাডেমি ব্যবস্থার মধ্য দিয়েই তারা উঠে এসেছেন। অধিনাযয়ক আশরাফ হাকিমি ও ব্রাহিম দিয়াজ স্পেনে, নুসাইর মাজরাউই নেদারল্যান্ডসে এবং আইয়ুব বুয়াদ্দি ফ্রান্সে বেড়ে উঠেছেন।

টুর্নামেন্টে ব্রাজিলের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করা প্রথম ম্যাচে একসময় মরক্কো বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম দল হিসেবে সম্পূর্ণ বিদেশে জন্ম নেওয়া ১১ জন খেলোয়াড়কে একসঙ্গে মাঠে নামিয়েছিল। এবার মরক্কোর সামনে অন্তত ২০২২ সালের ঐতিহাসিক সেমিফাইনাল যাত্রার পুনরাবৃত্তি করার সুযোগ রয়েছে।

বৃহস্পতিবার ফ্রান্সের বিপক্ষে ম্যাচের আগে মরক্কোর কোচ মোহাম্মদ ওয়াহবি বলেন, “মরক্কো যেমন প্রতিনিয়ত উন্নতি করছে, ফ্রান্সও তেমনই করছে। চার বছর আগের তুলনায় এই দুটি দলই এখন আরও শক্তিশালী। দুই দেশের ফুটবল ফেডারেশন যে অসাধারণ কাজ করছে, সেটির ফলই এটি।”

এবারের বিশ্বকাপে অংশ নেয়া খেলোয়াড়দের প্রায় এক-চতুর্থাংশই এমন একটি দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন, যেখানে তাদের জন্ম হয়নি। এদের অনেকের জন্ম ইউরোপে হলেও তারা অন্য দেশের জার্সি পরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

আর্জেন্টিনা এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম। তাদের অধিকাংশ খেলোয়াড়ের জন্ম দেশেই। তবে অনেককে অল্প বয়সেই ইউরোপীয় ক্লাবগুলো নিয়ে যায়। এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ লিওনেল মেসি, যিনি কিশোর বয়সেই বার্সেলোনায় যোগ দিয়েছিলেন।

ব্রাজিলের বেশিরভাগ খেলোয়াড়ও ইউরোপভিত্তিক ক্লাবে খেলেন। তবু ১৯৯০ সালের পর এই প্রথম তারা বিশ্বকাপের কোয়ার্টার-ফাইনালে উঠতে ব্যর্থ হয়েছে।

বিশ্বকাপে দীর্ঘ শিরোপা খরা কাটানোর লক্ষ্যে তারা ইউরোপীয় কোচ কার্লো আনচেলত্তিকেও নিয়োগ দিয়েছিল। কিন্তু শেষ ষোলোতে নরওয়ের কাছে হেরে ব্রাজিল আরেকটি হতাশাজনক রেকর্ড ধরে রেখেছে। ২০০২ সালে সর্বশেষ বিশ্বকাপ জয়ের পর থেকে নকআউট পর্বে যতবারই তারা ইউরোপীয় দলের মুখোমুখি হয়েছে প্রতিবারই পরাজিত হয়েছে।

অন্যদিকে স্বাগতিক হওয়ায় এবারের বিশ্বকাপকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অন্তত কোয়ার্টার-ফাইনালে ওঠার আদর্শ সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছিল। তারা এর আগে একবার ২০০২ সালে শেষ আটে উঠেছিল। কিন্তু এবার তাদের যাত্রা শেষ হয়েছে বেলজিয়ামের কাছে ৪-১ গোলের বড় পরাজয়ে।

এদিকে এশিয়া এবার রেকর্ড নয়টি দল নিয়ে অংশ নিলেও গ্রুপ পর্ব পেরোতে পেরেছে শুধু অস্ট্রেলিয়া ও জাপান।

কলম্বিয়ার প্রত্যাশাও ছিল অনেক। কিন্তু তারা টাইব্রেকারে হেরে বিদায় নিয়েছে সুইজারল্যান্ডের কাছে। পশ্চিম ইউরোপের আরেকটি ছোট দেশ সুইজারল্যান্ড যাদের প্রতিভার ভান্ডার তুলনামূলকভাবে অনেক সমৃদ্ধ।

১৯৫৪ সালের পর প্রথমবারের মতো কোয়ার্টার-ফাইনালে ওঠা সুইজারল্যান্ডের বিশ্বাস, ইউরোপের শীর্ষ দলগুলোর বিপক্ষে নিয়মিত খেলার অভিজ্ঞতা তাদের আর্জেন্টিনার সঙ্গে সমানতালে লড়াই করার সাহস যোগাচ্ছে।

সুইজারল্যান্ডের কোচ মুরাত ইয়াকিন বলেন, “এটি আমাদের জন্য এক অনন্য সুযোগ। আমরা দেখেছি, আর্জেন্টিনাকে হারানো অসম্ভব নয়।”


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category