সার নিয়ে বিভিন্ন স্থানে নানা সমস্যার সৃষ্টি হলেও দেশে সারের কোনো সংকট নেই বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন ও খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী। তিনি বলেন, পর্যাপ্ত পরিমাণ সার মজুদ রয়েছে। সার বিতরণ ব্যবস্থাকে আরও উন্নত, সুশৃঙ্খল ও কার্যকর করতে জেলা প্রশাসন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিজি এগ্রিকালচার)সহ সংশ্লিষ্টরা বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। ওই কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী সার বিতরণ কার্যক্রম নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট ) সকাল ১০টায় জয়পুরহাটের কালাই উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে কালাই, ক্ষেতলাল ও আক্কেলপুর উপজেলার কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী (এমপি)।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার ইতোমধ্যে সার উত্তোলন ও বিতরণ বিষয়ে নতুন নীতিমালা জারি করেছে। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী সংশ্লিষ্টরা কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। কোথাও কোথাও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে। আবার কিছু অসাধু ডিলার সময়মতো সার উত্তোলন না করায় কিংবা উত্তোলন করা সার যথাসময়ে বাজারে না আনায় কিছু এলাকায় সারের দাম সাময়িকভাবে বেড়েছিল।
তিনি বলেন, বর্তমানে দেশের সার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। অন্যান্য সারের তুলনায় ইউরিয়া সারের ব্যবহার এখন অপেক্ষাকৃত কম। তবে আলু চাষের মৌসুম সামনে থাকায় অনেক কৃষক প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত সার সংগ্রহের চেষ্টা করছেন। এর ফলে কিছু কিছু সারের চাহিদা ও দাম সাময়িকভাবে বেড়েছিল। বিষয়গুলো ইতোমধ্যে পর্যালোচনা করা হয়েছে।
আব্দুল বারী বলেন, জয়পুরহাটে পর্যাপ্ত সার বরাদ্দ রয়েছে। স্বাভাবিক বরাদ্দের বাইরেও সরকার অতিরিক্ত চার হাজার মেট্রিক টন সার বরাদ্দ দিয়েছে। ইউরিয়া ও নন-ইউরিয়া—কোনো ধরনের সারেরই ঘাটতি নেই। সার বিতরণ ব্যবস্থা সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য যেসব কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, কৃষকরা যাতে নির্ধারিত মূল্যে পর্যাপ্ত সার পান, সে বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে। কোথাও কোনো অনিয়ম বা দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন জয়পুরহাটের জেলা প্রশাসক আল মামুন মিয়া, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জয়পুরহাটের উপপরিচালক মনজু আলম সরকার, কালাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফয়সাল আহমেদ, ক্ষেতলাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাকির মুন্সী, ক্ষেতলাল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মল্লিকা রানী, আক্কেলপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইমরান হোসেন ও কালাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হারুনূর রশিদ।
এ ছাড়া কালাই উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ইব্রাহীম হোসেন ফকির, যুগ্ম আহ্বায়ক মৌদুদ আলম সরকারসহ স্থানীয় বিএনপির নেতৃবৃন্দ এবং উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা সভায় উপস্থিত ছিলেন।