নিজস্ব প্রতিবেদক (কালাই, জয়পুরহাট)
জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে পুকুরে মাছ ধরা এবং মাছ পরিবহনের গাড়ি চলাচলের একটি ব্রিজ ভাঙাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ১৩ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে চারজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাঁদের বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর ) রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার বড়তারা ইউনিয়নের নওটিকা এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রায় ২৮ বিঘা আয়তনের ‘নওটিকা ভাদার পুকুর’ নামের জলাশয়টির মালিকানা ও মাছ ধরা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের বিরোধ চলে আসছে। এ নিয়ে আব্দুল আলিমের পক্ষ থেকে এর আগে থানায় লিখিত অভিযোগও করা হয়।
পুকুরটির মালিকানা দাবি করে আলহাজ্ব হাসান আলী বলেন, তিনি ক্রয়সূত্রে পুকুরটির মালিক এবং গত ১৮ মাস ধরে সেখানে মাছ চাষ করে আসছেন। সম্প্রতি মাছ বিক্রি শুরু করলে আব্দুল আলিম ও মোরাদ হোসেনের নেতৃত্বে তাঁর কাছে চার লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে পুকুর থেকে মাছ তোলার সময় প্রতিপক্ষ হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
হাসানের অভিযোগ, মাছ পরিবহনের একটি পিকআপ ভ্যানে হামলা চালিয়ে এর চাকা কেটে দেওয়া হয় এবং কাচ ভাঙচুর করা হয়। এ সময় বাধা দিতে গেলে তাঁর জামাইসহ কয়েকজনকে মারধর করা হয়।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আব্দুল আলিম। তিনি বলেন, মঙ্গলবারের সংঘর্ষের সঙ্গে তাঁর সরাসরি কোনো সম্পৃক্ততা নেই। পুকুরে অনধিকার প্রবেশ ও মাছ ধরার অভিযোগে তিনি শুধু থানায় লিখিত অভিযোগ করেছিলেন।
আব্দুল আলিমের দাবি, পুকুর থেকে মাছ পরিবহনের জন্য অতিরিক্ত ভারী গাড়ি চলাচলের কারণে স্থানীয় একটি ব্রিজ ভেঙে যায়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় যুবকদের সঙ্গে গাড়িচালকদের কথাকাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। পরে সেই ঘটনাই সংঘর্ষে রূপ নেয়।
সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১৩ জন আহত হন। তাঁদের প্রথমে ক্ষেতলাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও জয়পুরহাট জেলা আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে চারজনকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
ক্ষেতলাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুক্তারুল আলম জানান, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে উভয় পক্ষের আহতরা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।