• শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৪৪ পূর্বাহ্ন

বাংলাদেশকে বৈশ্বিক বিনিয়োগের কেন্দ্রে নিতে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

অনলাইন ডেস্ক / ৮ Time View
Update : শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
প্রধানমন্ত্রী

ওয়াল স্ট্রিটে বিনিয়োগকারীদের প্রধানমন্ত্রী: আস্থা, পূর্বানুমেয়তা ও প্রবৃদ্ধির পরিবেশ নিশ্চিত করবে সরকার

অনলাইন ডেস্ক:

বাংলাদেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে তাঁর সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘আমাদের বার্তা খুবই পরিষ্কার—বাংলাদেশ ব্যবসার জন্য উন্মুক্ত।’ বিনিয়োগের জন্য আস্থা, পূর্বানুমেয়তা ও প্রবৃদ্ধির উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষায় সরকার প্রয়োজনীয় সংস্কার ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন করছে বলেও জানান তিনি।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে অংশ নিতে নিউইয়র্ক সফররত প্রধানমন্ত্রী স্থানীয় সময় শুক্রবার সকালে ম্যানহাটনে জেপি মর্গানের সদর দপ্তর ২৭০ পার্ক অ্যাভিনিউয়ে ওয়াল স্ট্রিটের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতা, বিনিয়োগকারী ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক প্রাতরাশ বৈঠকে এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজনীতিতে আসার আগে ব্যবসায় কর্মজীবন শুরু করার অভিজ্ঞতা থেকে তিনি একটি সহজ শিক্ষা পেয়েছেন—বিনিয়োগের জন্য আস্থা, পূর্বানুমেয়তা এবং প্রবৃদ্ধির উপযোগী সঠিক পরিবেশ প্রয়োজন।

জেপি মর্গান ও বৈঠকে অংশ নেওয়া ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি ওয়াল স্ট্রিটের মানুষ নই; একজন বাংলাদেশি এবং রাজনৈতিক নেতা হিসেবে দেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষার দায়িত্ব নিয়ে এখানে এসেছি।’ ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীরা তাঁদের ব্যবসা ও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করেন, আর তাঁর দায়িত্ব বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষা করা। দায়িত্ব ভিন্ন হলেও উভয়ের মূলনীতি সাফল্য নিশ্চিত করা বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্য

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে ১৮ কোটিরও বেশি মানুষের বসবাস। দেশটির রয়েছে তরুণ ও কর্মঠ জনগোষ্ঠী, ক্রমবর্ধমান বাজার এবং কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান। বিশ্ব বাংলাদেশকে বড় উৎপাদন ও তৈরি পোশাকের কেন্দ্র হিসেবে চেনে। এটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হলেও বাংলাদেশের সম্ভাবনা এর চেয়েও অনেক বিস্তৃত।

জ্বালানি, অবকাঠামো, লজিস্টিকস, প্রযুক্তি, ডিজিটাল সেবা, জলবায়ু অর্থায়ন, উৎপাদন, কৃষি ও স্বাস্থ্যসেবায় উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলা এবং বাংলাদেশকে বৈশ্বিক উৎপাদন, বিনিয়োগ ও সেবা খাতের একটি কেন্দ্রে পরিণত করা সরকারের লক্ষ্য।

এই লক্ষ্য অর্জনে বিনিয়োগকারীদের জন্য বাংলাদেশকে আরও সহজ, স্থিতিশীল ও নির্ভরযোগ্য করে তুলতে সরকার কাজ করছে বলেও জানান তিনি। নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা সহজ করা, বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা জোরদার, বিধিবিধান সরলীকরণ, কর ও ভ্যাট প্রশাসনের উন্নয়ন, মুনাফা সহজে দেশে ফেরত নেওয়ার ব্যবস্থা এবং অবকাঠামোর উন্নয়নে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

যুক্তরাষ্ট্রসহ প্রধান অর্থনীতির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করতে চায় তাঁর সরকার। একই সঙ্গে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে নতুন অর্থনৈতিক ব্যবস্থা, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে নতুন অংশীদারত্বের উদ্যোগ এবং চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদারের কথাও তুলে ধরেন তিনি।

বিশ্বের প্রধান অর্থনীতিগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের আরও ঘনিষ্ঠ সংযোগ স্থাপনে এসব উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

বাংলাদেশের প্রথম সার্বভৌম বন্ড ইস্যুতে জেপি মর্গানের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশের জন্য একটি নতুন রেফারেন্স পয়েন্ট পেয়েছেন এবং দেশের পুঁজিবাজারকে বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থার সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

‘বক্তব্য নয়, বাস্তবায়নেই আস্থা’

বিনিয়োগকারীরা শেষ পর্যন্ত কোনো বক্তব্যের পর কী ঘটে, তার ভিত্তিতেই একটি দেশকে মূল্যায়ন করেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিধিবিধান কতটা পূর্বানুমেয়, বিনিয়োগ কতটা সুরক্ষিত, মূলধন কতটা দক্ষতার সঙ্গে স্থানান্তর করা যায় এবং মুনাফা কতটা সহজে দেশে ফেরত নেওয়া যায়—এসব তাঁদের যৌক্তিক প্রশ্ন।

‘নীতির মাধ্যমে এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে তার কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে আস্থা তৈরি করাই সরকারের দায়িত্ব’—বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকার স্বল্পমেয়াদি লেনদেন নয়, উভয় পক্ষের জন্য মূল্য সৃষ্টি করবে—এমন দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব চায়।

ওয়াল স্ট্রিটের প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে এমন একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্মে পরিণত করতে চায় সরকার, যেখান থেকে বিনিয়োগকারীরা বৃহত্তর আঞ্চলিক বাজারে তাঁদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবেন।

তিনি জানান, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজারবিষয়ক বিশেষ সহকারী তানভীর গনি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবেন এবং তাঁদের স্বার্থ ও সুনির্দিষ্ট বিষয়গুলো সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করবেন।

‘আরও বিনিয়োগ, আরও কর্মসংস্থান’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারের লক্ষ্য অত্যন্ত সরল—আরও বিনিয়োগ, আরও বাণিজ্য, আরও কর্মসংস্থান, আরও প্রযুক্তি এবং বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আরও শক্তিশালী অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব।’

বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বিনিয়োগ এবং দীর্ঘমেয়াদি ভিত্তিতে ব্যবসা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনাদের সঙ্গে কাজ করতে, আপনাদের কথা শুনতে এবং যেখানে সম্ভব বাধা দূর করতে আমরা প্রস্তুত। আশা করি, আপনাদের অনেককেই শিগগিরই বাংলাদেশে দেখতে পাব।’

বৈঠকে ওয়াল স্ট্রিটের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতা, বিনিয়োগকারী ও বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category