সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার ১২ নম্বর গাবুরা ইউনিয়নে সুন্দরবনকেন্দ্রীক বনজীবীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়, বনদস্যুদের সঙ্গে যোগসাজশ, জেলেদের অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ে সহযোগিতা এবং সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে হয়রানি ও চাঁদাবাজির অভিযোগে মেহেদী হাসান এবং জি.এম. বিল্লাল হোসেন ও জি.এম. ইয়াসিন আরাফাতের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন আজমুন্নাহার, রওসানআরা বেগম, সালাউদ্দিন আহমেদ ও জনাব আলিসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, গাবুরা ইউনিয়নের অধিকাংশ মানুষ সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল। জেলে, বাওয়ালি, মৌয়ালসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সুন্দরবনে প্রবেশ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। কিন্তু সুন্দরবনকেন্দ্রীক বনদস্যুদের তৎপরতা নিয়ে উদ্বেগের কারণে সাধারণ বনজীবীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে এবং তাদের স্বাভাবিকভাবে জীবিকা নির্বাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
বক্তারা আরো বলেন, অভিযুক্তরা এলাকার চিহ্নিত চাঁদাবাজ ও বনদস্যুদের সঙ্গে আঁতাত করে সুন্দরবনগামী জেলেসহ বনজীবীদের কাছ থেকে বিভিন্ন অঙ্কের অর্থ আদায় করছেন। তাদের অভিযোগ, জেলেদের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত আদায় করে এর একটি অংশ বনদস্যুদের সঙ্গে ভাগাভাগি করা হচ্ছে।
মানববন্ধনে বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, জি.এম. বিল্লাল হোসেন এবং তার ছেলে জি.এম. ইয়াসিন আরাফাত দীর্ঘদিন ধরে গণঅধিকারের নেতা পরিচয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসছেন।
রাজনৈতিক পরিচয় পরিবর্তন করে নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মের পরিচয় ব্যবহার করেও তারা পুনরায় এলাকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করেন বক্তারা।
এছাড়া মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন অভিযোগ তুলে বক্তারা বলেন, তিনি সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের ভয় দেখিয়ে হয়রানি ও চাঁদাবাজি করছেন। তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা রয়েছে এবং সেই মামলার পলাতক আসামি বলে দাবী করেন তারা। স্থানীয়দের দাবি, তার মাধ্যমে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও পুলিশ সদস্যদেরও হয়রানি এবং ব্ল্যাকমেইল করা হয়েছে।
এদিকে, মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে অভিযোগসংক্রান্ত একটি লিখিত কাগজে তার রোষাণলে ভুক্তভোগী হিসেবে কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। ওই লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ফেসবুক সাংবাদিক মেহেদী হাসান গত ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দে শ্যামনগর এলাকায় যাওয়ার পর থানা এলাকার লোকজন তাকে ধরে গণপিটুনি দিয়ে থানায় সোপর্দ করেন। পরে তার নামে শ্যামনগর থানার মামলা নং-২০, তারিখ-২০ সেপ্টেম্বর খ্রিষ্টাব্দ, ধারা-৩৬৫/৩৮৬, পেনাল কোডে মামলা রুজু হয় এবং পরবর্তীতে তাকে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়।
মানববন্ধনে উপস্থিত স্থানীয়রা এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। একই সঙ্গে সুন্দরবননির্ভর জেলে, বাওয়ালি, মৌয়ালসহ সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।