ঢাজা ০৪:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

উত্তরাঞ্চলে অতিবৃষ্টির শঙ্কা, সিলেট-সুনামগঞ্জে সাময়িক বন্যার আশঙ্কা


৯৬ ঘণ্টা ভারী বর্ষণ হতে পারে, ৭ মে পর্যন্ত সক্রিয় থাকবে বৃষ্টি বলয়

স্টাফ রিপোর্টার:
দেশের উত্তরাঞ্চল ও তৎসংলগ্ন এলাকায় শনিবার সন্ধ্যা থেকে অতিবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। একইসঙ্গে উত্তর-পূর্বাঞ্চল, বিশেষ করে সিলেটসুনামগঞ্জ-এর নিচু এলাকাগুলোতে সাময়িক বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে জানান, দেশের উত্তরাঞ্চলে গভীর সঞ্চালনশীল মেঘমালা সৃষ্টি হয়েছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে। এর প্রভাবে শনিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ৯৬ ঘণ্টায় ময়মনসিংহ বিভাগসিলেট বিভাগ-এর কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। এতে এসব অঞ্চলের নগর এলাকায় অস্থায়ী জলাবদ্ধতার আশঙ্কাও রয়েছে।

এদিকে আবহাওয়া বিষয়ক বেসরকারি সংস্থা বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিম-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মশিউর রহমান জানান, প্রাক-মৌসুমী বৃষ্টি বলয় ‘ঝুমুল’ বাংলাদেশের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে শুরু করেছে, যা ৭ মে পর্যন্ত সক্রিয় থাকতে পারে। এ সময়ে দেশের প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ এলাকায় বজ্রবৃষ্টি, কালবৈশাখী ঝড় এবং কোথাও কোথাও অতি ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি বলেন, ইতোমধ্যে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বৃষ্টিপাত বৃদ্ধির লক্ষণ দেখা গেছে এবং রাতের দিকে তা আরও সক্রিয় হতে পারে। আগামী ২৮ বা ২৯ এপ্রিল থেকে বৃষ্টি ধীরে ধীরে সারা দেশে বিস্তৃত হতে পারে এবং ৫ মে পর্যন্ত ঝড়-বৃষ্টির প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে।

উজানের এলাকা যেমন মেঘালয়, আসামচেরাপুঞ্জি অঞ্চলে ৫০০ থেকে ৭০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে পাহাড়ি ঢল নেমে সিলেটসুনামগঞ্জ-এর নিচু এলাকায় সাময়িক বন্যা দেখা দিতে পারে। তবে এ বন্যা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা কম বলে জানান তিনি।

এই সময়ে ঝড়ের গতিবেগ ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে, কিছু ক্ষেত্রে এর চেয়ে বেশি বা কমও হতে পারে।

টানা বৃষ্টিপাতের কারণে হাওর অঞ্চলে চলমান ধান কাটার কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে কৃষকদের ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এদিকে তাপমাত্রা ধীরে ধীরে কমে আসতে পারে এবং ২৮ বা ২৯ এপ্রিল থেকে আবহাওয়া তুলনামূলকভাবে আরামদায়ক হয়ে উঠতে পারে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ৪৫ থেকে ৫৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বৃদ্ধির গুজবকে ভিত্তিহীন উল্লেখ করে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, বরং বৃষ্টিপাত বৃদ্ধির কারণে তাপমাত্রা কমার সম্ভাবনাই বেশি।

ট্যাগ
জনপ্রিয় সংবাদ

গণভোট নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোকারীদের প্রশ্রয় না দিতে আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

উত্তরাঞ্চলে অতিবৃষ্টির শঙ্কা, সিলেট-সুনামগঞ্জে সাময়িক বন্যার আশঙ্কা

সপ্রকাশিত হয়েছে: ০২:৪৯:৫৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬


৯৬ ঘণ্টা ভারী বর্ষণ হতে পারে, ৭ মে পর্যন্ত সক্রিয় থাকবে বৃষ্টি বলয়

স্টাফ রিপোর্টার:
দেশের উত্তরাঞ্চল ও তৎসংলগ্ন এলাকায় শনিবার সন্ধ্যা থেকে অতিবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। একইসঙ্গে উত্তর-পূর্বাঞ্চল, বিশেষ করে সিলেটসুনামগঞ্জ-এর নিচু এলাকাগুলোতে সাময়িক বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে জানান, দেশের উত্তরাঞ্চলে গভীর সঞ্চালনশীল মেঘমালা সৃষ্টি হয়েছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে। এর প্রভাবে শনিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ৯৬ ঘণ্টায় ময়মনসিংহ বিভাগসিলেট বিভাগ-এর কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। এতে এসব অঞ্চলের নগর এলাকায় অস্থায়ী জলাবদ্ধতার আশঙ্কাও রয়েছে।

এদিকে আবহাওয়া বিষয়ক বেসরকারি সংস্থা বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিম-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মশিউর রহমান জানান, প্রাক-মৌসুমী বৃষ্টি বলয় ‘ঝুমুল’ বাংলাদেশের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে শুরু করেছে, যা ৭ মে পর্যন্ত সক্রিয় থাকতে পারে। এ সময়ে দেশের প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ এলাকায় বজ্রবৃষ্টি, কালবৈশাখী ঝড় এবং কোথাও কোথাও অতি ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি বলেন, ইতোমধ্যে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বৃষ্টিপাত বৃদ্ধির লক্ষণ দেখা গেছে এবং রাতের দিকে তা আরও সক্রিয় হতে পারে। আগামী ২৮ বা ২৯ এপ্রিল থেকে বৃষ্টি ধীরে ধীরে সারা দেশে বিস্তৃত হতে পারে এবং ৫ মে পর্যন্ত ঝড়-বৃষ্টির প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে।

উজানের এলাকা যেমন মেঘালয়, আসামচেরাপুঞ্জি অঞ্চলে ৫০০ থেকে ৭০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে পাহাড়ি ঢল নেমে সিলেটসুনামগঞ্জ-এর নিচু এলাকায় সাময়িক বন্যা দেখা দিতে পারে। তবে এ বন্যা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা কম বলে জানান তিনি।

এই সময়ে ঝড়ের গতিবেগ ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে, কিছু ক্ষেত্রে এর চেয়ে বেশি বা কমও হতে পারে।

টানা বৃষ্টিপাতের কারণে হাওর অঞ্চলে চলমান ধান কাটার কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে কৃষকদের ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এদিকে তাপমাত্রা ধীরে ধীরে কমে আসতে পারে এবং ২৮ বা ২৯ এপ্রিল থেকে আবহাওয়া তুলনামূলকভাবে আরামদায়ক হয়ে উঠতে পারে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ৪৫ থেকে ৫৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বৃদ্ধির গুজবকে ভিত্তিহীন উল্লেখ করে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, বরং বৃষ্টিপাত বৃদ্ধির কারণে তাপমাত্রা কমার সম্ভাবনাই বেশি।