ঢাজা ০৪:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শুধু আইন প্রণয়ন নয়, বাস্তবায়ন ও সচেতনতা জরুরি: আইনমন্ত্রী

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান আজ সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘নির্যাতন প্রতিরোধ এবং ইউএনসিএটি ও ওপিসিএটি বাস্তবায়ন বিষয়ক জাতীয় পরামর্শ সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতা দেন।


নির্যাতনের সংস্কৃতি বন্ধে সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তনের আহ্বান

স্টাফ রিপোর্টার:
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, শুধু আইন প্রণয়ন করে দেশে নির্যাতনের সংস্কৃতি বন্ধ করা সম্ভব নয়। এ জন্য আইন বাস্তবায়নের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা গড়ে তোলা অপরিহার্য।

রোববার সকালে রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেল-এ অনুষ্ঠিত ‘নির্যাতন প্রতিরোধ এবং ইউএনসিএটি ও ওপিসিএটি বাস্তবায়ন বিষয়ক জাতীয় পরামর্শ সভা’য় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, নির্যাতন একটি সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক ব্যাধি, যা থেকে বেরিয়ে আসতে না পারলে ভালো আইন ও শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে না। তিনি বলেন, “নির্যাতনের সংস্কৃতি নির্মূল করতে হলে আইন প্রণয়নের পাশাপাশি এর সঠিক বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে এবং সমাজে এমন সচেতনতা তৈরি করতে হবে, যাতে মানুষ নির্যাতনকে অমানবিক, অন্যায় ও অগ্রহণযোগ্য হিসেবে বিবেচনা করে।”

সংবিধানের সুরক্ষার বিষয় তুলে ধরে তিনি বলেন, অনুচ্ছেদ ৩৫(৫) অনুযায়ী কোনো ব্যক্তিকে নির্যাতন বা নিষ্ঠুর, অমানবিক কিংবা অবমাননাকর আচরণের শিকার করা যাবে না। এই সাংবিধানিক বিধান আন্তর্জাতিক মানবাধিকার নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং রাষ্ট্র ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ওপর বাধ্যবাধকতা আরোপ করে।

বর্তমান পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি জানান, গত দুই মাসে এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জোরপূর্বক গুমের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। একইসঙ্গে আগস্ট-পরবর্তী সময়ে হেফাজতে নির্যাতনের ঘটনাও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে বলে দাবি করেন তিনি। এগুলো দেশের আইনি সংস্কৃতি ও জাতীয় বিবেকের ক্ষেত্রে ইতিবাচক অগ্রগতি বলেও উল্লেখ করেন।

তবে সুরক্ষা আইনের অপব্যবহার যেন না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা দায়মুক্তির সংস্কৃতি চাই না। আমরা কোনো ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘন, হেফাজতে মৃত্যু, জোরপূর্বক গুম বা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড মেনে নেব না।”

অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে অধিকার এবং ওএমসিটি

সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি দলের প্রধান মাইকেল মিলার, দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারপারসন বিচারপতি মঈনুল ইসলাম

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নির্যাতন ও অমানবিক আচরণবিরোধী জাতিসংঘের বিশেষ র‌্যাপোর্টার ড. অ্যালিস জিল এডওয়ার্ডস

ট্যাগ
জনপ্রিয় সংবাদ

গণভোট নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোকারীদের প্রশ্রয় না দিতে আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

শুধু আইন প্রণয়ন নয়, বাস্তবায়ন ও সচেতনতা জরুরি: আইনমন্ত্রী

সপ্রকাশিত হয়েছে: ০২:২২:২৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬


নির্যাতনের সংস্কৃতি বন্ধে সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তনের আহ্বান

স্টাফ রিপোর্টার:
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, শুধু আইন প্রণয়ন করে দেশে নির্যাতনের সংস্কৃতি বন্ধ করা সম্ভব নয়। এ জন্য আইন বাস্তবায়নের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা গড়ে তোলা অপরিহার্য।

রোববার সকালে রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেল-এ অনুষ্ঠিত ‘নির্যাতন প্রতিরোধ এবং ইউএনসিএটি ও ওপিসিএটি বাস্তবায়ন বিষয়ক জাতীয় পরামর্শ সভা’য় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, নির্যাতন একটি সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক ব্যাধি, যা থেকে বেরিয়ে আসতে না পারলে ভালো আইন ও শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে না। তিনি বলেন, “নির্যাতনের সংস্কৃতি নির্মূল করতে হলে আইন প্রণয়নের পাশাপাশি এর সঠিক বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে এবং সমাজে এমন সচেতনতা তৈরি করতে হবে, যাতে মানুষ নির্যাতনকে অমানবিক, অন্যায় ও অগ্রহণযোগ্য হিসেবে বিবেচনা করে।”

সংবিধানের সুরক্ষার বিষয় তুলে ধরে তিনি বলেন, অনুচ্ছেদ ৩৫(৫) অনুযায়ী কোনো ব্যক্তিকে নির্যাতন বা নিষ্ঠুর, অমানবিক কিংবা অবমাননাকর আচরণের শিকার করা যাবে না। এই সাংবিধানিক বিধান আন্তর্জাতিক মানবাধিকার নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং রাষ্ট্র ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ওপর বাধ্যবাধকতা আরোপ করে।

বর্তমান পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি জানান, গত দুই মাসে এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জোরপূর্বক গুমের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। একইসঙ্গে আগস্ট-পরবর্তী সময়ে হেফাজতে নির্যাতনের ঘটনাও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে বলে দাবি করেন তিনি। এগুলো দেশের আইনি সংস্কৃতি ও জাতীয় বিবেকের ক্ষেত্রে ইতিবাচক অগ্রগতি বলেও উল্লেখ করেন।

তবে সুরক্ষা আইনের অপব্যবহার যেন না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা দায়মুক্তির সংস্কৃতি চাই না। আমরা কোনো ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘন, হেফাজতে মৃত্যু, জোরপূর্বক গুম বা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড মেনে নেব না।”

অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে অধিকার এবং ওএমসিটি

সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি দলের প্রধান মাইকেল মিলার, দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারপারসন বিচারপতি মঈনুল ইসলাম

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নির্যাতন ও অমানবিক আচরণবিরোধী জাতিসংঘের বিশেষ র‌্যাপোর্টার ড. অ্যালিস জিল এডওয়ার্ডস