
সরকার দলীয় সংসদ সদস্যরা বলেছেন, আওয়ামী লীগ ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মতো বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নির্বাচনের আগে তাদের অতীত কর্মকাণ্ডের জন্য জাতির কাছে ক্ষমা চেয়েছে। তবে বিএনপিকে কখনোই এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়নি, কারণ দলটি সবসময় জনগণের পাশে থেকেছে।
বুধবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তারা এসব কথা বলেন।
সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, ১৯৪১ সালে প্রতিষ্ঠিত জামায়াতে ইসলামী দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাস থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন সময়ে ভুল ও ত্রুটির কারণে নির্বাচনের আগে ক্ষমা চাইতে বাধ্য হয়েছে। তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, “এটি কি প্রকৃত রাজনৈতিক চর্চা?”
তিনি অভিযোগ করেন, বিরোধী দল নির্বাচনকে সামনে রেখে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছিল, তবে জনগণ তা প্রত্যাখ্যান করেছে। এ কারণেই বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে বলে তিনি দাবি করেন।
মন্ত্রী আরও বলেন, বিএনপি কখনো জনগণের কাছে ক্ষমা চায়নি, কারণ দলটি সবসময় জনগণের পাশে থেকেছে এবং বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তিনি উল্লেখ করেন, গত ১৭ বছর ধরে বিএনপি ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে সফল গণআন্দোলন গড়ে তুলেছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন গত ১২ মার্চ শুরু হয়। এতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ভাষণ দেন। পরে সংসদীয় কার্য-উপদেষ্টা কমিটি রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনার জন্য ৫০ ঘণ্টা সময় নির্ধারণ করে। চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম ধন্যবাদ প্রস্তাব উত্থাপন করেন এবং হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু তা সমর্থন করেন।
আলোচনায় অংশ নিয়ে বিভিন্ন মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা সরকারের নীতিমালা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, সংসদের লক্ষ্য ৯০-এর গণআন্দোলন ও ২০২৪ সালের জুলাই গণআন্দোলনের চেতনায় দেশ গঠন করা।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, জনগণ তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত করে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছে।
সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে স্মরণ করে তার ভূমিকার কথা তুলে ধরেন।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বলেন, বর্তমান সংসদ একটি ব্যতিক্রমী সংসদ এবং এটি গণতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠার পথে কাজ করছে।
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন সংসদকে জনগণের ত্যাগের ফসল হিসেবে উল্লেখ করেন।
ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দেশের সম্পদ হিসেবে অভিহিত করেন এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে তার নেতৃত্বের প্রশংসার কথা জানান।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, সরকারের সময়োচিত উদ্যোগে শ্রমিকদের কল্যাণ নিশ্চিত হয়েছে, যা অর্থনীতিকে শক্তিশালী করেছে।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম বলেন, একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে রাজনৈতিক সমঝোতা প্রয়োজন।
ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে জ্বালানি লোডিংয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সংসদে আলোচিত না হওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করেন।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু তিস্তা মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেন।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বিরোধী দলকে সরকারের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
এছাড়া প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা বিভিন্ন বিষয়ে মতামত তুলে ধরেন এবং জাতীয় উন্নয়নে সম্মিলিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
দৈনিক একুশে সংবাদ বিডি 























