• সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৩৬ পূর্বাহ্ন
Headline
ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়নে কৃষিভিত্তিক শিল্প ও বিনিয়োগ বাড়ানোর তাগিদ চৌদ্দগ্রামে ‘হোটেল গ্রীণ ভিউ এন্ড সুইটস-০২’ উদ্বোধন টেকনাফে ২০ হাজার ইয়াবাসহ তিন মাদক কারবারি আটক শিক্ষায় এআই ও তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারে গুগলের সহযোগিতা চাইলেন শিক্ষামন্ত্রী ডেঙ্গু প্রতিরোধে দেশজুড়ে পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতা কার্যক্রম জোরদারের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জলবায়ু-সহনশীল নগর গড়তে সরকার বদ্ধপরিকর ক্যাশমেমো ও মূল্যতালিকায় অনিয়ম, কালাইয়ে দুই সার ডিলারকে জরিমানা সরকারকে সহযোগিতা আমাদের কাম্য, বিরোধিতার নামে অস্থিরতা নয় ১০ সন্তান মানুষ করেও শেষ বয়সে ঠাঁই হলো গাছতলায়, বরগুনায় অসহায় বাবা-মায়ের করুণ পরিণতি পাঁচ সন্তানের মাকে বাঁচাতে আকুতি, চিকিৎসার খরচ জোগাতে অসহায় পরিবার

রূপপুরের ‘বালিশ কাণ্ড’ দুর্নীতির প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রীর কাছে পেশ

স্টাফ রিপোর্টার: / ৭৭ Time View
Update : বুধবার, ৬ মে, ২০২৬


রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের বহুল আলোচিত ‘বালিশ কাণ্ড’ দুর্নীতির প্রতিবেদন স্থান পেয়েছে সরকারি বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার ৩৮টি অডিট রিপোর্টে, যা প্রধানমন্ত্রীর কাছে পেশ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার বিকেলে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ২০২১-২২ অর্থবছরের অডিট রিপোর্ট প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করেন বাংলাদেশের মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (সিএজি) মো. নূরুল ইসলাম। এ সময় মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, অর্থ সচিব খায়েরুজ্জামান মজুমদার, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলীসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী জানান, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার অডিট প্রতিবেদনের সঙ্গে রূপপুর প্রকল্পের ‘বালিশ কাণ্ড’-এর তদন্ত প্রতিবেদনও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তিনি বলেন, প্রতিটি বালিশের অস্বাভাবিক উচ্চমূল্য দেখে প্রধানমন্ত্রী বিস্ময় প্রকাশ করেন এবং রসিকতার সুরে মন্তব্য করেন, “এই দামি বালিশের একটি জাদুঘরে রাখা উচিত।”

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের ‘গ্রিন সিটি’ আবাসিক ভবনের জন্য আসবাবপত্র ও ইলেকট্রনিক সামগ্রী কেনাকাটায় ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসে, যা ‘বালিশ কাণ্ড’ নামে পরিচিতি পায়।

অডিট প্রতিবেদনে দেখা যায়, ওই প্রকল্পে প্রায় ১৬৯ কোটি টাকার কেনাকাটায় বিভিন্ন ক্ষেত্রে অস্বাভাবিক মূল্য নির্ধারণ করা হয়। প্রতিটি বালিশের দাম দেখানো হয় ৫ হাজার ৯৫৭ টাকা, যা সাধারণ বাজারদরের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি। এছাড়া প্রতিটি বালিশ আবাসিক ভবনের খাটে তোলার জন্য মজুরি ধরা হয়েছে ৭৬০ টাকা, যা নিয়েও ব্যাপক সমালোচনা সৃষ্টি হয়।

এছাড়াও কভারসহ একটি কমফোর্টারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৬ হাজার ৮০০ টাকা, যেখানে বাজারমূল্য সাড়ে ৪ হাজার থেকে সর্বোচ্চ সাড়ে ১৩ হাজার টাকার মধ্যে। একইভাবে বিদেশি বিছানার চাদর কেনা হয়েছে ৫ হাজার ৯৩৬ টাকায়, যদিও এর বাজারমূল্য প্রায় ৩ হাজার থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রকল্পটির বিভিন্ন ধাপে অতিরিক্ত ব্যয় দেখানো, মূল্যবৃদ্ধি এবং ক্রয় প্রক্রিয়ায় অনিয়মের কারণে রাষ্ট্রের বিপুল পরিমাণ অর্থ অপচয় হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের দুর্নীতির ঘটনা শুধু প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়মকেই নির্দেশ করে না, বরং সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার অভাবকেও সামনে নিয়ে আসে। তারা মনে করেন, এ ধরনের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।

সরকারি মহল থেকে জানানো হয়েছে, অডিট রিপোর্টের সুপারিশ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category