হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে নিউমোনিয়া আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার হাসপাতালগুলোতেও গত কয়েক দিন ধরে শ্বাসকষ্ট, জ্বর, কাশি ও বুকে সংক্রমণ নিয়ে রোগীদের ভিড় বাড়ছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে সংক্রমণের হার বেশি হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন চিকিৎসকরা।
সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের জরুরি বিভাগগুলোতে প্রতিদিনই বাড়ছে রোগীর চাপ। অনেক হাসপাতালেই শিশু ওয়ার্ডে শয্যা সঙ্কট দেখা দিয়েছে। শিশু হাসপাতালগুলোতে একাধিক শিশুকে চিকিৎসা দেওয়ার ঘটনাও ঘটছে। অনেক শিশু উচ্চ জ্বর, শ্বাস নিতে কষ্ট, কাশি এবং বুক ধড়ফড় করার উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আবহাওয়ার অস্বাভাবিক পরিবর্তন, বায়ুদূষণ, ভাইরাসজনিত সংক্রমণ, দুর্বল রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা এবং অসচেতনতার কারণে পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে উঠছে। চিকিৎসকদের মতে, অনেক মানুষ প্রথম দিকে সাধারণ ঠান্ডা-কাশি ভেবে চিকিৎসা নিতে দেরি করছেন। ফলে সংক্রমণ ফুসফুসে ছড়িয়ে গিয়ে গুরুতর আকার ধারণ করছে।
চিকিৎসকরা জানান, অনেক অভিভাবক প্রথমে স্থানীয় ফার্মেসি থেকে ওষুধ কিনে খাওয়ান। কিন্তু শিশু যখন দ্রুত শ্বাস নিতে শুরু করে বা খাবার খেতে চায় না, তখন হাসপাতালে আনা হয়। ততক্ষণে সংক্রমণ অনেক দূর এগিয়ে যায়। শুধু শিশু নয়, বয়স্কদের মধ্যেও সংক্রমণ বাড়ছে। বিশেষ করে ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, কিডনি জটিলতা কিংবা হাঁপানিতে আক্রান্ত ব্যক্তিরা বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন। গুরুতর নিউমোনিয়া রোগীদের জন্য আইসিইউ সাপোর্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সরকারি হাসপাতালগুলোতে আইসিইউ বেডের সংখ্যা সীমিত। ফলে রোগীর সংখ্যা আরও বাড়লে সঙ্কট দেখা দিতে পারে।
বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ ডা. জিয়াউল হক বলেন, হামে আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে নিউমোনিয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে, বিশেষ করে অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের ক্ষেত্রে। নিউমোনিয়া শুধু ফুসফুস নয়, মস্তিষ্কসহ শরীরের অন্যান্য অঙ্গেও প্রভাব ফেলতে পারে। অনেকে ডায়রিয়া, বমি, পানিশূন্যতা ও অন্যান্য সংক্রমণ নিয়েও হাসপাতালে আসে, যা পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তোলে।