অভিযোগ অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের জন্য সরবরাহ করা খাবারের প্রকৃত বাজারমূল্যের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি দাম দেখিয়ে বিল উত্তোলন করা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে নিম্নমানের খাবার সরবরাহ করা হলেও কাগজে-কলমে উচ্চমূল্য দেখানো হচ্ছে বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, স্কুল ফিডিং কর্মসূচিতে প্রতিদিন লাখো শিক্ষার্থীর জন্য কলা, ডিম, রুটি ও অন্যান্য খাবার সরবরাহ করা হয়। কিন্তু মাঠপর্যায়ে তদারকির দুর্বলতা, ঠিকাদারি সিন্ডিকেট এবং প্রশাসনিক অনিয়মের সুযোগে বিপুল অঙ্কের অর্থ আত্মসাতের পথ তৈরি হয়েছে।
কয়েকটি জেলায় অনুসন্ধানে দেখা গেছে, একটি সেদ্ধ ডিমের বাজারমূল্য যেখানে ১২ থেকে ১৪ টাকা, সেখানে বিল দেখানো হচ্ছে ২৫ থেকে ৩০ টাকা। একইভাবে কলা ও রুটির ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত মূল্য দেখানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অভিভাবক ও স্থানীয়দের অভিযোগ, অনেক স্কুলে খাবারের মান অত্যন্ত নিম্নমানের। কোথাও ছোট আকারের কলা, কোথাও বাসি রুটি কিংবা নিম্নমানের ডিম সরবরাহ করা হলেও কর্তৃপক্ষের নজরদারি কার্যকর নয়।
শিক্ষা বিশ্লেষকরা বলছেন, শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ এই কর্মসূচি যদি দুর্নীতির কারণে প্রশ্নবিদ্ধ হয়, তবে এর মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে। তারা অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত, জবাবদিহি এবং ডিজিটাল মনিটরিং ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে অনিয়মের বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কোনো প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়নি।
দুর্নীতি দমন ও সুশাসন নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো বলছে, সরকারি অর্থে পরিচালিত এমন কর্মসূচিতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হলে শিক্ষার্থীদের অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং জনগণের আস্থাও কমে যাবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্কুল ফিডিং কর্মসূচিকে দুর্নীতিমুক্ত রাখতে স্থানীয় প্রশাসন, শিক্ষা বিভাগ ও অভিভাবকদের সমন্বিত নজরদারি জরুরি।