বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনের কয়েকটি জনপ্রিয় ডিজিটাল ম্যাপিং প্ল্যাটফর্মে সাম্প্রতিক আপডেটের পর ইসরাইলের নাম অনুপস্থিত দেখা যায়। সেখানে পুরো অঞ্চলকে “ফিলিস্তিন” হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে বলে দাবি উঠেছে। বিষয়টি সামনে আসতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র আলোচনা শুরু হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুতে চীনের অবস্থান দীর্ঘদিন ধরেই ফিলিস্তিনপন্থী হিসেবে পরিচিত। গাজা যুদ্ধ এবং ফিলিস্তিন সংকট নিয়ে বেইজিং একাধিকবার যুদ্ধবিরতি ও স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে মত দিয়েছে। তবে মানচিত্রে এ ধরনের পরিবর্তনকে অনেকেই কূটনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা হিসেবে দেখছেন।
এ ঘটনায় ইসরাইলপন্থী মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সমালোচকদের দাবি, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি রাষ্ট্রের নাম মানচিত্র থেকে সরিয়ে দেওয়া রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পদক্ষেপ হতে পারে। যদিও এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি।
অন্যদিকে ফিলিস্তিনপন্থী বিভিন্ন সংগঠন চীনের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে। তাদের মতে, ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি ও অধিকারের প্রশ্নে এটি প্রতীকী হলেও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে প্রভাব বিস্তার এবং বৈশ্বিক কূটনীতিতে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতেই চীন এ ধরনের পদক্ষেপ নিতে পারে। তবে এর ফলে ইসরাইল-চীন সম্পর্কের ওপর নতুন চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক চলছে। কেউ এটিকে ফিলিস্তিনের প্রতি সমর্থনের প্রকাশ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ বলছেন এটি আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক রীতিনীতির পরিপন্থী।
বিশ্ব রাজনীতির অস্থির প্রেক্ষাপটে চীনের এই পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুতে নতুন করে উত্তেজনা ও কূটনৈতিক আলোচনার জন্ম দেবে বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।