বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে ৮৬ রানে হারের পর স্বাগতিকদের পেস আক্রমণের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন অস্ট্রেলিয়ার উইকেটকিপার-ব্যাটার অ্যালেক্স ক্যারি। বিশেষ করে তরুণ পেসার নাহিদ রানার গতি ও বাউন্স সামলাতে ব্যর্থতার কথা স্বীকার করেন তিনি।
মঙ্গলবার ২৮৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই চাপে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। মাত্র ২ রানে ২ উইকেট হারানোর পর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পতন ঘটে। ১৫৬ রানে ৯ উইকেট হারানো দলটি শেষদিকে ক্যামেরন গ্রিনের পঞ্চাশোর্ধ ইনিংসে ১৯১ রানে পৌঁছায়। পরে বজ্রপাত ও বৃষ্টির কারণে খেলা বন্ধ হলে ডাকওয়ার্থ-লুইস পদ্ধতিতে বাংলাদেশ ৮৬ রানে জয় লাভ করে। ম্যাচে নাহিদ রানা একাই ৪টি উইকেট নেন।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে ক্যারি বলেন, বাংলাদেশের পেসাররা অনেক ব্যাটারের জন্য নতুন অভিজ্ঞতা ছিল। বিশেষ করে নাহিদ রানার বোলিং আলাদা করে নজর কাড়ে। এ ধরনের উইকেটে তার অতিরিক্ত গতি ও বাউন্স কার্যকর হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, “আমরা তার গতি সম্পর্কে জানতাম, কিন্তু মাঠে সামনে দাঁড়িয়ে খেলা সম্পূর্ণ ভিন্ন অভিজ্ঞতা। সে লম্বা গড়নের হওয়ায় বাড়তি বাউন্স আদায় করতে পারে।”
দুই দলের পেস আক্রমণের তুলনা টেনে ক্যারি বলেন, শুরুতে অস্ট্রেলিয়ার বোলাররাও ভালো বল করেছেন এবং কিছু সুযোগ তৈরি করেছিলেন, তবে সেগুলো কাজে লাগানো যায়নি। তিনি বলেন, ফিল্ডিংয়ে আরও নিখুঁত হতে হবে এবং দ্রুত শিখে পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে।
অস্ট্রেলিয়ার অধিকাংশ ব্যাটারই এবার প্রথমবারের মতো নাহিদ রানার মুখোমুখি হয়েছেন। ক্যারি বলেন, “সে সত্যিই ভালো বোলিং করেছে। আমরা জানতাম কী আসছে, তবুও সামলাতে পারিনি। সামনে আরও দুই ম্যাচ আছে। আশা করি পরের ম্যাচগুলোতে ভালোভাবে মোকাবিলা করতে পারব।”
ম্যাচে অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক জস ইংলিসকে আউট করার পর নাহিদের উদযাপন ও কথার লড়াই নিয়েও আলোচনা ওঠে। এ বিষয়ে ক্যারি বলেন, ক্রিকেটে এমন প্রতিদ্বন্দ্বিতা স্বাভাবিক, যতক্ষণ তা সীমা অতিক্রম না করে। কী কথা হয়েছে তা তিনি জানেন না বলেও জানান।
তিনি আরও বলেন, দ্রুতগতির বোলারদের কাছ থেকে এমন আগ্রাসন প্রত্যাশিত। দ্বিতীয় স্পেলে নাহিদের বোলিং আগেই ভিডিও দেখে অনুমান করা গেলেও মাঠে সেটি মোকাবিলা করা কঠিন ছিল। পরবর্তী ম্যাচগুলোতে পরিস্থিতি পাল্টানোর লক্ষ্য নিয়ে নামবে অস্ট্রেলিয়া দল।