নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি |
স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়ন ও হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দেওয়া তিন দিনের আল্টিমেটামের পর মাঠপর্যায়ে তৎপরতা শুরু করেছে জেলা প্রশাসন। এরই অংশ হিসেবে নারায়ণগঞ্জের প্রধান সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোঃ রায়হান কবির।
পরিদর্শনকালে তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান, ডা. এএফএম মশিউর রহমান এবং অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপুসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
জেলা প্রশাসক হাসপাতালের জরুরি বিভাগ, ইনডোর ওয়ার্ড, অপারেশন থিয়েটার, রান্নাঘর, টয়লেট ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা ঘুরে দেখেন। তিনি রোগী ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে সেবার বাস্তব চিত্র জানার চেষ্টা করেন। একই সঙ্গে রান্নাঘরের পরিচ্ছন্নতা, ওষুধের প্রাপ্যতা এবং চিকিৎসক-নার্সদের উপস্থিতিও পর্যবেক্ষণ করা হয়।
পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে জেলা প্রশাসক মোঃ রায়হান কবির বলেন, “স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা ও সেবার মান নিশ্চিতে তিন দিনের সময় বেঁধে দিয়েছেন। সেই নির্দেশনার আলোকে আমরা ভিক্টোরিয়া হাসপাতাল পরিদর্শন করেছি। রোগীরা যেন কোনো হয়রানি ছাড়াই মানসম্মত চিকিৎসাসেবা পান, সেটিই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা, রান্নাঘরের স্বাস্থ্যবিধি, ওষুধ সরবরাহ এবং চিকিৎসক-নার্সদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। অনিয়ম পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, “হাসপাতালের বর্জ্য অপসারণ ও আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে সিটি করপোরেশন সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে। রোগীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় আমরা সমন্বিতভাবে কাজ করব।”
পরিদর্শন শেষে জেলা প্রশাসক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে দ্রুত চিহ্নিত ত্রুটিগুলো সংশোধন করে আরও রোগীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবার মান তদারকিতে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনার কথাও জানান।
উল্লেখ্য, ভিক্টোরিয়া হাসপাতাল নারায়ণগঞ্জ জেলার অন্যতম প্রধান সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সাম্প্রতিক নির্দেশনার পর হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা ও সেবার মান উন্নয়নে বিশেষ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভবিষ্যতেও এ ধরনের তদারকি ও কঠোর মনিটরিং অব্যাহত থাকবে।