ঢাকা প্রতিনিধি:
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেছেন, ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত শক্তিগুলোর আবার দেশে ফেরার ঘোষণা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের সমর্থকদের সক্রিয়তা রাষ্ট্রের ব্যর্থতার বহিঃপ্রকাশ।
শনিবার (১১ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় শিল্পকলা একাডেমিতে জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের বিশেষ ‘অডিও-ভিজ্যুয়াল প্রকাশনা সিরিজ’ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, “গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে যাদের ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল, তারা এখন প্রকাশ্যে দেশে ফেরার তারিখ ঘোষণা করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাদের সমর্থকদের সক্রিয়তা বেড়েছে। এই দুঃসাহস তাদের হওয়ার কথা ছিল না। এটি সামগ্রিকভাবে রাষ্ট্রের ব্যর্থতার বহিঃপ্রকাশ।”
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-র সম্ভাব্য দেশে ফেরার ঘোষণার প্রসঙ্গ টেনে তাজুল ইসলাম বলেন, “দিল্লি থেকে দিনক্ষণ জানিয়ে দেশে আসার ঘোষণা দেওয়া স্বৈরাচারদের জন্য আমরা বিশেষ দড়ির মালা নিয়ে প্রস্তুত আছি।”
তিনি আরও বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ইতিহাস সংরক্ষণ এবং শহীদদের আত্মত্যাগকে স্মরণীয় করে রাখতে জুলাইভিত্তিক মানসম্মত চলচ্চিত্র নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া উচিত।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের রক্তের ঋণ পরিশোধের অন্যতম উপায় হলো জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন এবং একটি ন্যায়ভিত্তিক, বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গড়ে তোলা। একই সঙ্গে তিনি জুলাই সনদের দ্রুত বাস্তবায়ন এবং শহীদ পরিবার ও আহতদের পুনর্বাসনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে এবং খুব শিগগিরই দল হিসেবে তাদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে। তিনি আরও বলেন, জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রুত সম্পন্ন করতে প্রয়োজনে ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা বাড়ানো হবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, জুলাই শহীদ জাবের ইব্রাহিম-এর মা রোকেয়া বেগমসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার অতিথিরা।