সিরাজগঞ্জে হঠাৎ করেই ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ বাড়তে শুরু করেছে। জেলা শহরের ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে দিন দিন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয়দের মাঝে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। তবে আক্রান্তদের একটি বড় অংশই ঢাকা থেকে এসেছেন বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ডেঙ্গুর প্রকোপ গত মাস থেকেই দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। বিদায়ী আগস্ট মাসে মোট ৪৫ জন ডেঙ্গু রোগী সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নিয়েছেন। তারা সবাই সুস্থ হয়ে যার যার বাড়িতে ফিরে গেছেন।
তবে চলতি সেপ্টেম্বর মাসে ডেঙ্গুর সংক্রমণ আরও ঊর্ধ্বমুখী রূপ নিয়েছে। চলতি সেপ্টেম্বর মাসের ১ তারিখ থেকে ৯ তারিখ দুপুর পর্যন্ত মাত্র ৯ দিনেই নতুন করে ১৭ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডক্টর শিমুল তালুকদার বলেন, এখানে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হওয়া রোগীদের অধিকাংশই ঢাকা ও তার আশেপাশের জেলা থেকে আক্রান্ত হয়ে সিরাজগঞ্জে এসে চিকিৎসা নিচ্ছেন। স্থানীয়ভাবে সংক্রমণের চেয়ে বহিরাগত আক্রান্তের সংখ্যাই এখন পর্যন্ত বেশি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীদের সঙ্গে কথা বলে আরএমও-র এই বক্তব্যের সত্যতা পাওয়া গেছে।
হাসপাতালে পুরুষ ওয়ার্ডে ভর্তি রোগী আবু সামা বলেন , আমি ঢাকার গাজীপুরে মর্ডান টেক্সটাইলে কর্মরত থাকা অবস্থায় হঠাৎ শরীরে তীব্র জ্বর আসে। পরে পরীক্ষা করে জানতে পারি ডেঙ্গু পজেটিভ। এরপর সিরাজগঞ্জে নিজ এলাকায় এসে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছি।
মহিলা ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন আরেক রোগী আয়েশা খাতুন বলেন, কয়েকদিন আগে ঢাকাতে মেয়ের বাসায় বেড়াতে গিয়েছিলাম। সেখান থেকে সিরাজগঞ্জে নিজ বাড়িতে ফেরার পর শরীরে জ্বর আসে। পরবর্তীতে চিকিৎসকের পরামর্শে পরীক্ষা করালে ডেঙ্গু ধরা পড়ে। এখন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছি।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আক্রান্তদের যথাযথ চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে। তবে এডিস মশার বিস্তার রোধে পৌর কর্তৃপক্ষ ও নাগরিকদের সচেতন হওয়া জরুরি। বাড়ির চারপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং জমানো পানি অপসারণ করার ওপর জোর দিচ্ছেন তারা।