কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার পিরিজপুর ইউনিয়নে একই মাঠে বিএনপির দুই পক্ষের পৃথক কর্মসূচির ঘোষণাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
জানা গেছে, শনিবার (২৫ জুলাই) বিকেল ৪টায় পিরিজপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সৈয়দ এহসানুল হুদার অনুসারীদের উদ্যোগে পিরিজপুর ইউনিয়ন বিএনপির কর্মী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এ কর্মসূচিকে সামনে রেখে শুক্রবার ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির বহিষ্কৃত সাবেক সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির। বক্তব্যে তিনি সৈয়দ এহসানুল হুদার রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং দাবি করেন, তিনি বিএনপির কোনো পর্যায়ের নেতা নন। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, দলীয় মনোনয়ন পেয়েও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি শেখ মুজিবুর রহমান ইকবালের কাছে পরাজিত হয়েছেন।
অন্যদিকে, ওই আলোচনা সভা থেকেই একই দিন, একই সময় ও একই স্থানে জুলাই শহীদদের স্মরণে দোয়া ও আলোচনা সভার ঘোষণা দেন কিশোরগঞ্জ-৫ (বাজিতপুর-নিকলী) আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি শেখ মুজিবুর রহমান ইকবালের অনুসারীরা। এতে স্থানীয়ভাবে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পায়।
পিরিজপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফখরুল আলম বলেন, কর্মী সমাবেশ আয়োজনের কোনো সাংগঠনিক এখতিয়ার সংশ্লিষ্টদের নেই। তারা এ ধরনের সমাবেশ করার চেষ্টা করলে তা প্রতিহত করা হবে। তবে দলীয় কর্মসূচি বা তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে কোনো আয়োজন হলে সেটি ভিন্ন বিষয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
অপরদিকে, বাজিতপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও কিশোরগঞ্জ জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট শাহ আলম জানান, আগামী ১৬ আগস্ট কটিয়াদীতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সম্ভাব্য আগমন উপলক্ষে প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই এ কর্মী সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে। তিনি বলেন, কর্মসূচি সম্পর্কে উপজেলা প্রশাসন ও থানাকে অবহিত করা হয়েছে এবং নির্ধারিত সময়েই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।
পিরিজপুর ইউনিয়ন যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. মাসুদ মিয়া অভিযোগ করেন, তাদের কর্মসূচি আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল। পরে একই সময়ে পাল্টা কর্মসূচি ঘোষণা করে অপ্রয়োজনীয় উত্তেজনা তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে শেখ মুজিবুর রহমান ইকবালের অনুসারীদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাজিতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম শহিদুল্লাহ বলেন, বিষয়টি নিয়ে পুলিশ সতর্ক রয়েছে। দুই পক্ষের সঙ্গেই যোগাযোগ করা হয়েছে। পরে কর্মসূচি ঘোষণা করা পক্ষ পুলিশকে জানিয়েছে, তারা কোনো ধরনের সংঘাত সৃষ্টি করবে না এবং আলাদা স্থানে কর্মসূচি পালন করবে।
একই মাঠে দুই পক্ষের পৃথক কর্মসূচির ঘোষণাকে কেন্দ্র করে এলাকায় আলোচনা-উত্তেজনা বিরাজ করলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সার্বক্ষণিক নজরদারি অব্যাহত রেখেছে।