বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেত্রী ববিতা আজ ৭৩তম জন্মদিন উদযাপন করছেন। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে অসংখ্য জনপ্রিয় চলচ্চিত্রে অভিনয় করে তিনি দেশ-বিদেশে অর্জন করেছেন ব্যাপক প্রশংসা ও সম্মান। জন্মদিন উপলক্ষে জীবনের নানা স্মৃতি, বর্তমান সময় এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেছেন এই গুণী অভিনেত্রী।
ববিতা বলেন, শিল্পীদের মন সবসময়ই তরুণ থাকে। বয়স বাড়লেও সৃজনশীলতার কোনো বয়স হয় না। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মানুষ আরও স্মৃতিকাতর হয়ে ওঠে।
শৈশবের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি বলেন, যশোরে কাটানো দিনগুলো, মায়ের হাতের রান্না, ভাইবোনদের সঙ্গে খুনসুটি এবং বৃষ্টিভেজা স্কুলফেরার স্মৃতি আজও তাকে আবেগাপ্লুত করে। ছোটবেলায় জন্মদিন ঘটা করে উদযাপনের প্রচলন না থাকলেও মায়ের হাতে নতুন জামা আর প্রিয় খাবারই ছিল সবচেয়ে বড় উপহার।
অভিনয়জীবনের স্মৃতিও তুলে ধরেন ববিতা। তিনি জানান, নায়িকা হওয়ার পর দেশ-বিদেশে শুটিং চলাকালে সহকর্মীরা তাকে জন্মদিনে সারপ্রাইজ দিতেন। সে সময়ের জনপ্রিয় চলচ্চিত্র পত্রিকাগুলোতেও তার জন্মদিন উপলক্ষে বিশেষ আয়োজন থাকত, যা আজও তার কাছে সোনালি স্মৃতি হয়ে আছে।
বর্তমানে কানাডায় ছেলে অনিকের সঙ্গে জন্মদিন উদযাপন করছেন ববিতা। তিনি বলেন, ছেলের দেওয়া জন্মদিনের সারপ্রাইজই এখন তার সবচেয়ে বড় আনন্দ।
জন্মদিনে আরেকটি সুখবরও জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী। আগামী মাসে যুক্তরাষ্ট্রে একটি স্থানীয় সংগঠন তাকে আজীবন সম্মাননা প্রদান করবে। এ সম্মানকে তিনি প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে উল্লেখ করেন।
সম্প্রতি গ্রামের বাড়িতে একটি মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনার বিষয়ে ববিতা বলেন, প্রত্যেকেরই নিজস্ব মত প্রকাশের অধিকার রয়েছে। তবে শিল্পীরা ধর্মের বাইরে নন। তিনি অভিনয়জীবন নিয়ে গর্বিত বলেও জানান এবং বলেন, সমাজসেবা ও মানবকল্যাণমূলক কাজেও তিনি সবসময় নিজেকে সম্পৃক্ত রেখেছেন।
জন্মদিনে দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়ে ববিতা বলেন, “যতদিন বেঁচে থাকি, সুস্থ ও সুন্দরভাবে যেন বাঁচতে পারি।”