স্থানীয় সূত্র ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন পোস্টের দাবি, প্রধানমন্ত্রীর কটিয়াদীর জনসভায় শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল ও তাঁর অনুসারীদের বড় একটি অংশ ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। এসব ব্যানার-ফেস্টুনে বহিষ্কৃত নেতাদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের দাবি তুলে ধরার পরিকল্পনা ছিল বলেও বিভিন্ন মহলে আলোচনা রয়েছে।
তবে প্রধানমন্ত্রীর জনসভাকে কেন্দ্র করে শেষ মুহূর্তে তাদের এ ধরনের কর্মসূচি নিয়ে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে—এমন দাবি করা হচ্ছে। এমনকি শেখ মুজিবুর রহমান ইকবালকে জনসভায় অংশ নিতে দেওয়া হবে না এবং তাঁর সমর্থকদের কোনো ধরনের ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে সমাবেশে অংশগ্রহণের সুযোগ থাকবে না—এমন একটি বার্তা তাঁদের কাছে পৌঁছেছে বলেও দাবি করছেন সংশ্লিষ্ট কয়েকজন।
এ বিষয়ে আরও দাবি করা হচ্ছে, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কেউ ইকবালের পক্ষে ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে সমাবেশে গেলে তাদের প্রতিহত করার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছিল। তবে এসব বক্তব্যের স্বাধীন ও নির্ভরযোগ্য সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি।
এরই মধ্যে শেখ মুজিবুর রহমান ইকবালের অসুস্থতা এবং চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর যাওয়ার খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তাঁর অনুসারীদের পক্ষ থেকে অসুস্থতার বিষয়টি উল্লেখ করে বিভিন্ন পোস্টও করা হয়েছে।
তবে তাঁর অসুস্থতা এবং বিদেশ যাওয়ার সঙ্গে কটিয়াদীতে প্রধানমন্ত্রীর জনসভায় অংশগ্রহণের বিষয়ে কোনো বিধিনিষেধের সম্পর্ক রয়েছে ফলে বিষয়টি নিয়ে বাজিতপুর-নিকলীর রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের কেউ কেউ মনে করছেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে দলীয় রাজনীতির ভেতরের টানাপোড়েনও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত নেতাদের রাজনৈতিক অবস্থান, তাঁদের অনুসারীদের ভবিষ্যৎ ভূমিকা এবং দলীয় সিদ্ধান্ত নিয়ে এলাকায় কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন পোস্ট ও স্ক্রিনশটে শেখ মুজিবুর রহমান ইকবালের অসুস্থতার বিষয়টি তুলে ধরা হলেও, এসব পোস্টের তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ফলে প্রশ্ন উঠছে—শেখ মুজিবুর রহমান ইকবালের হঠাৎ অসুস্থতা ও সিঙ্গাপুর যাওয়ার পেছনে প্রকৃত কারণ কী? এটি শুধুই চিকিৎসাজনিত বিষয়, নাকি প্রধানমন্ত্রীর কটিয়াদী সফরকে ঘিরে রাজনৈতিক কোনো পরিস্থিতির সঙ্গে এর যোগসূত্র রয়েছে?