কারাবন্দি পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে। এতে মঙ্গলবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভি। তিনি বলেছেন, ইমরানের মেডিক্যাল রিপোর্ট উদ্বেগজনক। রিপোর্টে উদ্বেগ, হৃদ্কম্পন ও উচ্চ রক্তচাপের বিষয় উঠে এসেছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। এক্সে দেয়া এক পোস্টে আলভি বলেন, ইমরান খানের মেডিক্যাল রিপোর্ট উদ্বেগজনক। আমি কয়েকজন বিশেষজ্ঞের সঙ্গে এগুলো পর্যালোচনা করেছি এবং খুব সহজ ভাষায় বিষয়টি লিখছি, যাতে প্রতিটি পাকিস্তানি ঠিক কী ঘটছে, তা বুঝতে পারেন।
আলভি বলেন, যেসব বিষয় তাকে সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন করছে সেগুলো হলো ইমরানের ‘উদ্বেগ ও মানসিক চাপের মাত্রা’, ‘হৃদ্কম্পন’ এবং ‘উচ্চ রক্তচাপ’। তিনি আরও বলেন, রিপোর্টে অনিদ্রার কথা উল্লেখ করা না হলেও ইমরানকে দেয়া ওষুধ দেখে মনে হচ্ছে, তিনিও এ সমস্যায় ভুগছেন। আলভি বলেন, আমি ইমরান খানকে ৩৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে চিনি। মানসিক চাপ কখনোই তার দুর্বলতা ছিল না। এখন সেই চাপ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। তিন বছর কারাবাস ও সম্পূর্ণ একাকিত্ব তার ওপর কী প্রভাব ফেলেছে, সেটাই এর মাধ্যমে বোঝা যায়।
পাকিস্তানের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, কারাবাস, তার সহকর্মীদের কারাবন্দি হওয়া ও মৃত্যুর ঘটনা, দীর্ঘদিনের একাকিত্ব এবং বাইরের সংবাদপত্র, বই ও তথ্যের সীমিত সুযোগকে ইমরানের মানসিক চাপের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন আলভি। সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং একমাত্র বিশ্বকাপজয়ী পাকিস্তানি ক্রিকেট অধিনায়ক ইমরান খানের হৃদ্স্পন্দনের হার নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন আলভি। তিনি বলেন, ইমরানের হৃদ্স্পন্দন বেড়ে প্রতি মিনিটে ৫৪ বার হয়েছে, যেখানে ঐতিহাসিকভাবে বিশ্রামরত অবস্থায় তার হৃদ্স্পন্দনের হার আরও কম ছিল।
ইমরানের দ্রুত হৃদ্যন্ত্রের পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা করার আহ্বান জানিয়েছেন আলভি। তার ভাষায়, ইমরানের ‘অবিলম্বে ২৪ ঘণ্টার হল্টার মনিটর’ প্রয়োজন। একই সঙ্গে নিয়মিত রক্তচাপ পর্যবেক্ষণেরও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। আলভি আরও কয়েকটি পরীক্ষার সুপারিশ করেছেন।
এর মধ্যে রয়েছে স্ট্রেস টেস্ট, ইকোকার্ডিওগ্রাম, কার্ডিয়াক এমআরআই, করোনারি আর্টারি ক্যালসিয়াম স্ক্যান এবং কার্ডিয়াক সিটি এনজিওগ্রাম। চিকিৎসকরা প্রয়োজন মনে করলে অন্য পরীক্ষাও করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। পাকিস্তান তেহরিকে ইনসাফের (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানকে হাসপাতালে নেয়ার দাবি জানিয়ে আলভি বলেন, ইমরান খানকে এখনই অবশ্যই একটি হাসপাতালের পরিবেশে নেয়া দরকার, যেখানে স্বাধীন চিকিৎসকদের একটি প্যানেল তার চিকিৎসা করবে।
ইমরান এখনো কারাগারে। তার দুই ছেলে সুলেমান খান ও কাসিম খানও তাদের বাবার সঙ্গে পরিবারের সদস্য, আইনজীবী ও চিকিৎসকদের দেখা করার সুযোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। চলতি মাসের শুরুতে সিএনএনকে তারা বলেন, আমরা কোনো খবর পাচ্ছি না। কারণ গত সাত মাস ধরে তার পরিবার, চিকিৎসক ও আইনজীবীদের তার সঙ্গে দেখা করতে দেয়া হয়নি।