সংস্কারপন্থী সাবেক চীনা প্রধানমন্ত্রী ঝু রংজির প্রতি মঙ্গলবার পতাকা অর্ধনমিত রেখে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্মরণ করে শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে। গত সপ্তাহে ৯৭ বছর বয়সে মারা যাওয়া এই নেতার শেষকৃত্যের আগে এসব কর্মসূচি পালন করা হয়।
১৯৯৮ সালে শুরু হওয়া পাঁচ বছরের প্রধানমন্ত্রিত্বকালে চীনের অর্থনীতিতে দৃঢ় হাতে পুনর্গঠন চালানোর জন্য পরিচিত ছিলেন ঝু। গত বুধবার তার মৃত্যুর পর রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া তাকে ‘একজন অসাধারণ সর্বহারা বিপ্লবী ও রাষ্ট্রনায়ক’ হিসেবে প্রশংসা করেছে।
বেইজিং থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
এএফপির সাংবাদিকরা জানান, মঙ্গলবার বেইজিংয়ের বিভিন্ন সরকারি ভবনে পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়। রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত তিয়েনআনমেন স্কয়ারেও পতাকা অর্ধনমিত ছিল। বিশাল এই স্থান ছিল কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত।
চীনের মাইক্রোব্লগিং সাইট ওয়েইবোতে তিয়েনআনমেন স্কয়ারে শ্রদ্ধা জানানোর বিষয়টি শীর্ষ আলোচিত বিষয়ে পরিণত হয়।
ওয়েইবোতে এক ব্যক্তি লেখেন, ‘এই দেশের জন্য আপনি যা কিছু করেছেন, তার জন্য ধন্যবাদ—আমরা আপনাকে সবসময় মনে রাখব।’
সিনহুয়া রোববার জানায়, মঙ্গলবার বেইজিংয়ে ঝুর মরদেহ দাহ করা হবে। চীনের ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির জ্যেষ্ঠ নেতাদের উপস্থিতিতে তার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানানোর একটি অনুষ্ঠানও হবে বলে আশা করা হচ্ছে। দেশটির প্রচলিত প্রটোকল অনুযায়ী এ ধরণের অনুষ্ঠান হয়ে থাকে।
১৯২৮ সালে মধ্য চীনে জন্ম নেওয়া ঝু ১৯৪৯ সালে মাও সেতুংয়ের নেতৃত্বে বিপ্লবের চূড়ান্ত বিজয়ের পর ধীরে ধীরে দলের বিভিন্ন পদে উঠে আসেন। তার রাজনৈতিক জীবনে সাংহাইয়ের মেয়র, জাতীয় পর্যায়ে উপপ্রধানমন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের বিষয়টি উল্লেখযোগ্য।
তার প্রধানমন্ত্রিত্বের সময় প্রেসিডেন্ট ছিলেন জিয়াং জেমিন। চশমা পরা ও প্রাণবন্ত স্বভাবের এই অর্থনৈতিক সংস্কারক ২০২২ সালে মারা যান।
ঝু দুর্নীতিবিরোধী কঠোর অভিযান, অদক্ষ রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলো ভেঙে দেওয়ার বিতর্কিত উদ্যোগ এবং চীনকে বৈশ্বিক অর্থনীতির সঙ্গে একীভূত করার জন্য পরিচিত ছিলেন।
একবার এক সাংবাদিক তাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, তিনি কীভাবে স্মরণীয় হয়ে থাকতে চান। জবাবে ঝু বলেছিলেন, ‘আমি শুধু আশা করি, দায়িত্ব ছাড়ার পর দেশের মানুষ বলবে, ‘তিনি একজন সৎ কর্মকর্তা ছিলেন, দুর্নীতিগ্রস্ত ছিলেন না-এতেই আমি খুব সন্তুষ্ট হব।’