• শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:০৩ অপরাহ্ন
Headline
মায়ের খিদমতের উপকারিতা : ইহকাল-পরকাল যে ধ্বনিতে শয়তান অস্বস্তিবোধ করে : ‘আল্লাহু আকবার’ নেপাল-তিব্বত দুর্যোগ মোকাবিলায় ৩ কোটি ১০ লাখ ডলারের সহায়তা চাইল রেড ক্রস  ‘দেশি ফলের প্রাচুর্য’—ফিরেছে পাইন্যাগুলা, লটকন : চট্টগ্রামের বাজারে আইন পেশায় সফলতায় অর্থের পেছনে না ছুটে দক্ষতা অর্জনের আহ্বান আইনমন্ত্রীর আসাদুজ্জামান বন্যায় প্রাণহানি বেড়ে ৩৯২, নিখোঁজ ১,৪০০ : নেপাল-তিব্বতে  চৌদ্দগ্রামে প্রবাসীর স্ত্রীর উপর দফায় দফায় হামলা স্বর্ণালঙ্কারসহ ১৫ লাখ টাকার মালামাল লুট, থানায় অভিযোগ জয়পুরহাটের কালাইয়ে সার গোডাউনে অভিযান, তিন প্রতিষ্ঠানকে ২০ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা নতুন যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞায় কোনো ফল হবে না : ইরান অবকাঠামো, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে চীনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চাই : স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান

যে ধ্বনিতে শয়তান অস্বস্তিবোধ করে : ‘আল্লাহু আকবার’

একুশে সংবাদঃ ইসলামি ডেস্ক / ২৩ Time View
Update : শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬

অত্যন্ত বরকতপূর্ণ ও শক্তিশালী একটি শব্দ হলো ‘আল্লাহু আকবার’। ‘আল্লাহু আকবার’ ধ্বনিতে মুমিনের ঈমানি শক্তি বৃদ্ধি পায়। মহান আল্লাহর বিশেষ রহমত লাভেরও একটি মাধ্যমে হলো তাঁর বড়ত্ব ও মহিমা ঘোষণা করা। পবিত্র কোরআনের বহু আয়াতে মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদের ‘তাকবির’ তথা মহান আল্লাহর বড়ত্ব ঘোষণার নির্দেশ দিয়েছেন।

পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘আর বলো, সব প্রশংসা আল্লাহরই, যিনি কোনো সন্তান গ্রহণ করেননি, রাজত্বে তাঁর কোনো শরিক নেই এবং অপমান থেকে বাঁচতে তাঁর কোনো অভিভাবকের দরকার নেই। সুতরাং তুমি পূর্ণরূপে তাঁর বড়ত্ব ঘোষণা করো।’ (সুরা : বনি ইসরাঈল, আয়াত : ১১১)

‘আল্লাহু আকবার’ ধ্বনির আরেকটি উপকারিতা হলো এটি শয়তানকে দুর্বল ও অসহায় করে দেয়। প্রতিদিন মুয়াজ্জিন যখন ‘আল্লাহু আকবার’ বলে আজান দিতে শুরু করে, তখন তা শয়তানের অন্তরেও জ্বালা ধরিয়ে দেয়।

হাদিসে স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে, আজানের ধ্বনি শয়তানের জন্য এক অসহনীয় যন্ত্রণা।

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহ‌র রাসুল (সা.) বলেছেন, যখন নামাজের জন্য আজান দেওয়া হয়, তখন শয়তান হাওয়া ছেড়ে পলায়ন করে, যাতে সে আজানের শব্দ না শোনে। যখন আজান শেষ হয়ে যায়, তখন সে আবার ফিরে আসে। আবার যখন নামাজের জন্য ইকামত বলা হয়, তখন আবার দূরে সরে যায়।

ইকামত শেষ হলে সে আবার ফিরে এসে লোকের মনে কুমন্ত্রণা দেয় এবং বলে এটা স্মরণ করো, ওটা স্মরণ করো, বিস্মৃত বিষয়গুলো সে মনে করিয়ে দেয়। এভাবে লোকটি এমন পর্যায়ে পৌঁছে যে সে কয় রাকাত নামাজ আদায় করেছে তা মনে করতে পারে না। (বুখারি, হাদিস : ৬০৮)

এই হাদিস দ্বারা বোঝা যায়, যখন মুয়াজ্জিন ‘আল্লাহু আকবার’ ধ্বনি আজান শুরু করে মানুষকে ইবাদতের আহবান করে, তখন শয়তানের অবস্থা অত্যন্ত লাঞ্ছনাকর হয়। ‘আল্লাহু আকবার’ ধ্বনি তাকে অসহায় করে তোলে। ফলে সে শুধু পালিয়েই যায় না, বরং এমন এক অবস্থায় পালায়, যা তার চরম লাঞ্ছনা ও অসহায়ত্ব প্রকাশ করে।

আল্লাহর মহিমা ঘোষণার ধ্বনি তার জন্য এতটাই অসহনীয় যে সে তা শোনা থেকেও নিজেকে বাঁচাতে চায়।

একইভাবে ইকামতের সময়ও যেহেতু আল্লাহর বড়ত্ব ঘোষণা করা হয়, তখন শয়তান দুর্বল হয়ে পড়ে। কিন্তু যখন এই পবিত্র ধ্বনি থেমে যায়, তখন সে আবার মানুষের অন্তরে কুমন্ত্রণা দেওয়ার সুযোগ খোঁজে।

তার কাজই হলো মানুষের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকা, তাদের আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করতে চেষ্টা করা। জাহান্নামের পথে পরিচালিত করা। এগুলো করতে সে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে, যা আল্লাহ নামের ধ্বনিতে দুর্বল হয়ে পড়ে। এটি যেন ঈমানের এমন এক শক্তি, যার সামনে শয়তানের সব ষড়যন্ত্র ভেঙে পড়ে।

আজান শুধু শয়তানকে দূরে সরায় না, বরং পরিবেশকে পবিত্র করে, মানুষের অন্তরকে আলোকিত করে এবং গাফেল হৃদয়কে জাগিয়ে তোলে। তাই যে সমাজে নিয়মিত আজানের ধ্বনি উচ্চারিত হয়, সেখানে শয়তানের প্রভাব তুলনামূলকভাবে কম থাকে।

‘আল্লাহু আকবার’ দুই শব্দের একটি বাক্য হলেও এটি মুমিনের জীবনে এক বিশাল শক্তির উৎস। তাকবির মানুষকে মনে করিয়ে দেয় সবচেয়ে বড়, সবচেয়ে শক্তিশালী, সবচেয়ে মহিমান্বিত একমাত্র আল্লাহ। ফলে মানুষের অন্তরে জন্ম নেয় তাকওয়া, সাহস, প্রশান্তি ও আল্লাহর ওপর নির্ভরতা। দূর হয়ে যায় ভয়, হতাশা। দুর্বল হয়ে পড়ে শয়তানের কুমন্ত্রণা, আর হৃদয় আল্লাহমুখী হয়।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category