সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নাম ব্যবহার করে বসতভিটার কাগজপত্র ঠিক করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে বিপুল অর্থ আদায়ের অভিযোগে মানববন্ধন। অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম আব্দুল্লাহ, তিনি গাবুরা চকবারা এলাকার হযরত আলীর ছেলে। তবে অর্থ আদায়ের অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত আব্দুল্লাহ ও সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা।
স্থানীয় অধিবাসীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে গাবুরা ইউনিয়নের লক্ষ্মীখালী এলাকার মো. হেলাল উদ্দিন, মো. আলামিন গাজী, মোছা. ফিরোজা ও মোছা. ফাহিমাসহ অনেকের কাছ থেকে কাগজপত্র সংশোধনের কথা বলে টাকা নেওয়া হয়। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ভূমি অফিসের বিভিন্ন জটিল কাজ দ্রুত সমাধান করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে জনপ্রতি ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা করে হাতিয়ে নিয়েছেন আব্দুল্লাহ। এভাবে এলাকাটির প্রায় ৫০ জন বাসিন্দার কাছ থেকে অর্থ আদায় করা হয়েছে বলে দাবি করছেন তারা।
মিথ্যা আশ্বাসে টাকা আদায়ের এ ঘটনায় গাবুরা ইউনিয়নজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তবে অর্থ লেনদেনের কোনো লিখিত রসিদ বা সুনির্দিষ্ট প্রমাণ তাৎক্ষণিকভাবে উপস্থাপন করতে পারেননি অভিযোগকারীরা।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত আব্দুল্লাহ সব দাবি অস্বীকার করে বলেন, “আমার সঙ্গে ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা আব্দুল গনি উপস্থিত ছিলেন। আমি কোনোভাবেই কারও কাছ থেকে টাকা আদায় করিনি। আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”
এ বিষয়ে গাবুরা ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা আব্দুল গনির কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, “আব্দুল্লাহকে আমি সঙ্গে করে নিয়ে গিয়েছিলাম। তবে আমার জানামতে সে কোথাও থেকে কোনো টাকা আদায় করেনি।”
অভিযোগকারী ও অভিযুক্তদের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের কারণে বিষয়টি নিয়ে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, ভূমি অফিসের মতো একটি স্পর্শকাতর প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, তা উদঘাটনে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। একই সঙ্গে ঘটনার সত্যতা প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।