নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশ পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় জয়েন্ট সেক্রেটারি, ঢাকা উত্তর অঞ্চলের সভাপতি ও গাজীপুর মহানগর সভাপতি হাজী মনসুর আহমেদ বলেছেন, যানজট নিরসনে মহাসড়ক থেকে ব্যাটারিচালিত রিকশা পুরোপুরি নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি ফুটপাত দখলমুক্ত, অবৈধ পার্কিং বন্ধ এবং মহাসড়ক থেকে হকার উচ্ছেদে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
তিনি বলেন, দীর্ঘস্থায়ী যানজট নিরসনে বিকল্প বাইপাস সড়ক নির্মাণ এবং সড়ক ব্যবস্থার বিকেন্দ্রীকরণ করা যেতে পারে। একই সঙ্গে মহাসড়কের পাশের ড্রেনেজ ব্যবস্থা নিয়মিত পরিষ্কারের আওতায় আনতে হবে। শহরের পরিবেশ রক্ষায় সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ও ময়লা মহাসড়কের পাশে না ফেলে নির্দিষ্ট স্থানে অপসারণের ব্যবস্থাও নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
হাজী মনসুর আহমেদ বলেন, রাস্তার পাশে অবৈধভাবে গাড়ি পার্কিং যানজটের অন্যতম কারণ। এ ধরনের পার্কিং বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। পাশাপাশি মোটর পরিবহন শ্রমিকদের পেশাগত দক্ষতা ও ট্রাফিক আইন সম্পর্কে প্রশিক্ষণের আওতায় আনতে হবে।
তিনি আরও বলেন, তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে সরকার নির্ধারিত ভাড়া আদায় করতে গিয়ে মোটর পরিবহন শ্রমিকরা বিভিন্ন সময় যাত্রীদের হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। অনেক যাত্রী সরকার নির্ধারিত ভাড়া দিতে অপারগতা প্রকাশ করার পাশাপাশি শ্রমিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ ও সংঘাতে জড়িয়ে পড়ছেন। এ ধরনের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারকে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
দীর্ঘদিন মোটর পরিবহন শ্রমিক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অনেক শ্রমিক ফুসফুসসহ বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, অসুস্থ ও আক্রান্ত শ্রমিকদের দুঃসময়ে পাশে দাঁড়ানোর মতো কার্যকর ব্যবস্থা এখনও গড়ে ওঠেনি। দীর্ঘদিন পরিবহন খাতে কর্মরত শ্রমিকদের জন্য সরকারিভাবে নির্দিষ্ট ভাতা চালুর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
হাজী মনসুর আহমেদ বলেন, পরিবহন শ্রমিকদের ঘাম ও শ্রমে গাড়ির চাকা ঘোরে, আর সেই চাকার গতির সঙ্গে দেশের অর্থনীতিও সচল থাকে। পরিবহন ব্যবস্থা থমকে গেলে দেশের অর্থনীতিতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তাই পরিবহন শ্রমিকদের প্রতি সরকারের আরও গুরুত্ব দেওয়া এবং তাদের দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।