• বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:০৮ পূর্বাহ্ন

ইরানে ১০ মিনিটেই হামলা চালাতে পারে: ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি

আন্তজাতিক ডেস্ক / ১৭ Time View
Update : রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬

ইরানে এখনো এক বা দুটি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো বাকি রয়েছে। এমন কথা জানিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যেই এসব লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাতে পারে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে নতুন করে হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। শনিবার ফ্লোরিডায় নিজের বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, আমরা তাদের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ধ্বংস করেছি। তবে আমার মতে, এখনো এক বা দুটি স্থাপনা বাকি রয়েছে। আমরা চাইলে ১০ মিনিটের মধ্যেই সেগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারি। এ খবর দিয়েছে অনলাইন এনডিটিভি। তিনি আরও বলেন, আপনারা সম্ভবত পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনের কথা বিবেচনা করতে পারেন। এটির বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে হবে। আমরা খুব দ্রুতই এসব করতে পারি। পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি স্থাপনা। চলতি সপ্তাহেই যুক্তরাষ্ট্র ইরানে সম্ভাব্য হামলা চালাবে কি না, এমন প্রশ্নও করা হয় ট্রাম্পকে। জবাবে তিনি বলেন, আপনারা এমন বোকা প্রশ্ন কেন করেন? ধরুন, আমি যদি হামলা চালাই, তাহলে কি আপনাদের জানাব? তবে ইরানের সঙ্গে আলোচনা ভালোভাবেই এগোচ্ছে বলে দাবি করেন ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি বলেন, তবে আপনারা জানেন, তারা খুব একটা নির্ভরযোগ্য নয়।

ট্রাম্পের এমন বক্তব্যের পরই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে নতুন করে হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। গত মার্চে মার্কিন-ইসরাইলি হামলায় তার পিতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর তিনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব নেন। এরপর থেকে তাকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। ইরানের শীর্ষ সামরিক কমান্ডারদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি বলেছেন, যেকোনো ধরনের হুমকির জবাব তাৎক্ষণিকভাবে দেয়া হবে। এ বিষয়ে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তার বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়, যেকোনো মাত্রা বা ধরনের হুমকির জবাব দিতে হবে তাৎক্ষণিকভাবে, কার্যকরভাবে এবং ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা ছাড়াই। এ সময় সামরিক কমান্ডারদের ইরানের লক্ষ্যবস্তুর তালিকা হালনাগাদ করারও নির্দেশ দেন তিনি। তালিকায় ‘মার্কিন-জায়নবাদী শত্রুর সব ধরনের দৃশ্যমান ও অদৃশ্য সম্পদ’ অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এটি ছিল ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির সঙ্গে দেশটির শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের প্রথম প্রকাশিত বৈঠকের খবর। ওদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন আগামী ৩রা নভেম্বর মঙ্গলবার হওয়ার কথা। নির্বাচন শেষ হওয়ার পর ইরানে নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু করতে পারেন বলে কয়েক দিনে ইঙ্গিত দিয়েছেন ডনাল্ড ট্রাম্প। গত সপ্তাহে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার সাংকেতিক নাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা হয়তো আবারও ছোটখাটো একটি এপিক ফিউরি অভিযান চালাতে পারি। বুধবার দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য ‘স্বল্পমেয়াদি কিন্তু তীব্র সামরিক অভিযান’ চালানোর প্রস্তুতি নিতে পারস্য উপসাগরীয় কয়েকটি আরব দেশকে জানিয়েছে ওয়াশিংটন। আলোচনার বিষয়ে অবগত ব্যক্তিদের বরাত দিয়ে পত্রিকাটি জানায়, এ বিষয়ে ট্রাম্প এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি।

শনিবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওও সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে সামরিক লক্ষ্য অর্জন করতে সক্ষম। তবে ইরানে নতুন করে হামলার বিষয়ে ট্রাম্প এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেননি। এ সময় ইরানের বিরুদ্ধে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে ‘সক্রিয়ভাবে ও প্রকাশ্যে’ হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করার অভিযোগও করেন তিনি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category