• বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০১:৩১ পূর্বাহ্ন

বড়দিনের উপহার দিতে চান বাংলাদেশকে হোয়াইটওয়াশ করতে চান স্যামি

খেলাধুলা ডেস্ক / ৮ Time View
Update : বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬

দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে বাংলাদেশকে হোয়াইটওয়াশ করে ক্যারিবীয় জনগণকে আগাম বড়দিনের উপহার দিতে চান ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রধান কোচ ড্যারেন স্যামি।

ঢাকায় সিরিজের প্রথম টেস্টে ৮ উইকেটের জয়ী হয়ে ১-০ ব্যবধানে লিড নিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এবার সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আগামীকাল থেকে শুরু হতে যাওয়া দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে জিতে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ শেষ করতে চায় সফরকারীরা।

দীর্ঘদিনের সফর শেষে দেশে ফেরার অপেক্ষায় থাকার কথা স্বীকার করেছেন স্যামি। সামনে বড়দিন এবং পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগও রয়েছে তাঁর।

২-০ ব্যবধানে সিরিজ জয়ের প্রসঙ্গ টেনে স্যামি বলেন, “অধিনায়ক ছেলেদের বলেছে, এটি আমাদের জন্য দারুণ একটি বড়দিনের উপহার হবে।”

বাংলাদেশের মাটিতে সিরিজ জয়কে বড় অর্জন হিসেবে দেখছেন স্যামি। কারণ, নিজেদের মাঠে বাংলাদেশ বেশ শক্তিশালী দল হিসেবে পরিচিত।

তিনি বলেন, “এখানে এসে এমন কিছু করতে পারলে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে আমাদের জন্য এটি হবে অসাধারণ সমাপ্তি, দারুণ এক অর্জন।”

কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার শুরুর দিকে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঘরের মাঠে সিরিজ এবং ভারত ও নিউজিল্যান্ড সফরসহ বেশ কিছু কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হওয়ার কথা স্মরণ করেন স্যামি। তবে ধীরে ধীরে খেলোয়াড় নির্বাচন ও প্রত্যেকের ভূমিকার ক্ষেত্রে দল সঠিক ভারসাম্য ও স্থিতিশীলতা খুঁজে পেয়েছে বলে জানান তিনি।

বাংলাদেশের বিপক্ষে স্পিন সামলাতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের উন্নতির পেছনে ব্যাটিং কোচ ফ্লয়েড রেইফারের অধীনে দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতিকে কৃতিত্ব দিয়েছেন স্যামি।

অতীতে স্পিনের বিপক্ষে ভুগলেও প্রথম টেস্টে ক্যারিবীয় ব্যাটাররা যথেষ্ট ধৈর্য ও আত্মবিশ্বাস দেখিয়েছেন। বিশেষ করে চতুর্থ ইনিংসে কঠিন ১৭০ রানের লক্ষ্য তাড়া করার সময় তাদের ব্যাটিং ছিল আত্মবিশ্বাসী।

স্যামি বলেন, “বিশেষ করে দ্বিতীয় ইনিংসে কঠিন লক্ষ্য তাড়া করার সময় ছেলেরা যেভাবে খেলেছে, তা ছিল দারুণ। আমরা চাই, তারা এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখুক। যেকোনো ফরম্যাটে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সই সাফল্য এনে দেয়।”

সিলেট টেস্টে পেস ও স্পিনের সমন্বয় নিয়ে প্রশ্ন করা হলে স্যামি জানান, ভিন্ন ধরনের উইকেটের সঙ্গে মানিয়ে নিতে ভারসাম্যপূর্ণ দল গঠন করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

উইকেট পেসারদের সহায়ক হলে অভিজ্ঞ ফাস্ট বোলার কেমার রোচকে খেলানোর সুযোগ রয়েছে। অন্যদিকে, উইকেট স্পিন সহায়ক হলে তাদের হাতে যোগ্য বিকল্পও রয়েছে বলে জানান তিনি।

একাদশ চূড়ান্ত করার জন্য সংবাদ সম্মেলনের পর এবং ম্যাচের দিন সকালে উইকেট পর্যবেক্ষণ করবেন বলে জানান স্যামি।

তিনি বলেন, “আমি যদি বাংলাদেশের জায়গায় থাকতাম, বিশেষ করে বিশ্ব র‌্যাঙ্কিংয়ে চার নম্বরে থাকা একটি দল হিসেবে এবং প্রতিপক্ষ স্পিন কীভাবে সামলেছে তা দেখার পর, তাহলে সম্ভবত আমিও একই কাজ করতাম। অর্থাৎ স্পিন দিয়ে প্রতিপক্ষকে হারানোর চেষ্টা করতাম।”

তিনি আরও বলেন, ‘‘নিজেদের খেলার উন্নতির জন্য আমরা কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছি। তারা কী করবে, সেটি আমার নিয়ন্ত্রণে নেই। আমরা দল হিসেবে আরও ভালো ও ধারাবাহিক হওয়ার চেষ্টা করছি।”

প্রধান কোচ ফিল সিমন্সের অধীনে বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য মরিয়া থাকবে বলেও স্বীকার করেন স্যামি। অভিজ্ঞ কোচ হিসেবে সিমন্স সফরকারীদের জন্য লড়াই সহজ করবেন না বলেও মনে করেন তিনি।

স্যামি বলেন, “বাংলাদেশকে এবং ফিলকে আমি চিনি। তিনি যেভাবে কাজ করেন, তাতে প্রতিপক্ষকে ছাড় দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তিনি জয়ের জন্য মরিয়া হয়েই মাঠে নামবেন। তাই আমরা সহজ কিছু আশা করছি না।”

এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নিজেদের প্রস্তুতি ও আত্মবিশ্বাসের ওপর আস্থা রয়েছে স্যামির।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category