বদলির আগে তড়িঘড়ি দলিল নিবন্ধনের অভিযোগ; বালাম বইয়ে মিলল ভিন্ন তারিখ, নামজারি ও ভূমি উন্নয়ন করের নথি ঘিরে নতুন আলোচনা
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর মৌজায় মো. ইয়াসিনের সংশ্লিষ্ট জমি নিবন্ধনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিতর্কে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে জাতীয় দৈনিক ভোরের চেতনার পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে সরেজমিন অনুসন্ধান এবং সরবরাহ করা সরকারি নথির তথ্য পর্যালোচনা করা হয়েছে। এতে দলিল নিবন্ধনের তারিখ, নামজারি খতিয়ান ও ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের নথি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে।
অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট দলিলগুলো একই দিনে কিংবা সাব-রেজিস্ট্রারের বদলির ঠিক আগমুহূর্তে নিবন্ধন করা হয়েছে—এমন ধারণার সঙ্গে বালাম বইয়ে উল্লেখিত তারিখের পুরোপুরি মিল পাওয়া যায় না।
বালাম বইয়ে মিলল ভিন্ন তারিখের তথ্য
সরবরাহ করা সরকারি বালাম বইয়ের তথ্য অনুযায়ী, ৪৮১৮ থেকে ৪৮৮২ নম্বর পর্যন্ত মোট ৬৫টি দলিল ২০২৬ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর নিবন্ধিত হয়েছে। অন্যদিকে, ৫১২৫ থেকে ৫১৩৩ নম্বর পর্যন্ত আরও ৯টি দলিল ২০২৬ সালের ১ অক্টোবর নিবন্ধনের তথ্য রয়েছে।
এ তথ্য থেকে প্রতীয়মান হয়, সংশ্লিষ্ট দলিলগুলোর নিবন্ধন কার্যক্রম একাধিক তারিখে সম্পন্ন হয়েছে। ফলে বদলির আগে তড়িঘড়ি করে সব দলিল নিবন্ধনের অভিযোগ যাচাইয়ের ক্ষেত্রে মূল বালাম বই ও বদলির প্রজ্ঞাপন পাশাপাশি পর্যালোচনা করা জরুরি।
নামজারি ও খাজনার নথিও গুরুত্বপূর্ণ
অনুসন্ধানে সরবরাহ করা তথ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট জমির দলিলের সঙ্গে নামজারি খতিয়ান এবং ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের দাখিলার তথ্য রয়েছে। তবে জমির প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণে শুধু নামজারি কিংবা খাজনার দাখিলা যথেষ্ট নয়। মূল দলিল, আরএস- বিএস খতিয়ান, সরকারি ভূমি রেকর্ড এবং জমির শ্রেণি যাচাই করাও প্রয়োজন।
বিশেষ করে জঙ্গল সলিমপুরের জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিভিন্ন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট ভূমির প্রকৃত মালিকানা ও সরকারি খাসজমির বিষয়টি ভূমি প্রশাসনের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
কমিশনের মাধ্যমে দলিল সম্পাদনের বিষয়
সংশ্লিষ্ট দলিল সম্পাদনে ক্রেতার সরাসরি উপস্থিতির পরিবর্তে কমিশনের মাধ্যমে কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার তথ্যও আলোচনায় এসেছে। এ ক্ষেত্রে কমিশন নিয়োগের আবেদন, আদেশ, কমিশনারের প্রতিবেদন এবং নিবন্ধনসংক্রান্ত মূল নথি যাচাইয়ের মাধ্যমে প্রক্রিয়াটির আইনগত যথার্থতা নিশ্চিত করা সম্ভব।
আদালতের নিষেধাজ্ঞা ও সরকারি নির্দেশনার বিষয়
সংশ্লিষ্ট জমির নিবন্ধন বন্ধে কোনো আদালতের নিষেধাজ্ঞা কিংবা ভূমি প্রশাসনের লিখিত নির্দেশনা ছিল কি না, সেটিও অনুসন্ধানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আদালত, জেলা প্রশাসন, ভূমি অফিস ও সাব-রেজিস্ট্রি কার্যালয়ের নথি পর্যালোচনা করে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
অভিযোগ নয়, নথিই হোক সত্য নির্ধারণের ভিত্তি
জঙ্গল সলিমপুরের জমি নিবন্ধন নিয়ে ওঠা বিতর্কে কোনো পক্ষের বক্তব্য কিংবা অভিযোগের ভিত্তিতে আগাম সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। সরকারি বালাম বই, মূল দলিল, নামজারি খতিয়ান, ভূমি উন্নয়ন করের দাখিলা, কমিশন নিয়োগের নথি এবং বদলির প্রজ্ঞাপন—সবকিছু মিলিয়ে নিরপেক্ষভাবে যাচাই করাই প্রয়োজন।
জাতীয় দৈনিক একুশে সংবাদ পত্রিকার অনুসন্ধানে পাওয়া নথিগত তথ্যগুলো এ বিতর্কের গুরুত্বপূর্ণ দিক সামনে এনেছে। তবে জমির চূড়ান্ত মালিকানা, নিবন্ধনের পূর্ণাঙ্গ বৈধতা এবং কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, তা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও মূল নথির যাচাই অপরিহার্য।
জনস্বার্থে আমাদের প্রত্যাশা—সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরের জমি নিবন্ধন নিয়ে সব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হোক। নথি ও প্রমাণের ভিত্তিতেই বেরিয়ে আসুক প্রকৃত সত্য।