• বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:০৬ পূর্বাহ্ন

জামায়াত আমির- জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত লড়াই চলবে

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেস্ক. / ২০ Time View
Update : মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬

জনগণের অধিকার, সাধারণ যাত্রী ও প্রবাসীদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত লড়াই অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, জনগণের অধিকার জনগণের হাতে ফিরিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত এ সংগ্রাম চলবে।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর ২৯ মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে জামায়াতে ইসলামীর নেতা, সাবেক সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের কারাভোগ শেষে মুক্তি উপলক্ষে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এক মাস তিন দিন কারাভোগের পর আখতারুজ্জামান তাদের মাঝে ফিরে এসেছেন। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের দীর্ঘদিনের অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও যাত্রী হয়রানির প্রতিবাদ করতে গিয়ে তাকে কারাভোগ করতে হয়েছে। বিমানবন্দরে লাগেজ পেতে দীর্ঘ অপেক্ষা, ট্রলির সংকট ও মালামাল চুরির মতো সমস্যার বিরুদ্ধে তিনি প্রতিবাদ করেছিলেন।

জামায়াত আমির বলেন, প্রতিবাদের সময় কারও গায়ে হাত না তুললেও তার বিরুদ্ধে সরকারি কাজে বাধা ও কর্মকর্তাকে আঘাত করার অভিযোগে মামলা করা হয়।

তিনি আরও বলেন, আখতারুজ্জামানের প্রতিবাদের পর বিমানবন্দরে নতুন ট্রলি সংযোজন, লাগেজ বেল্টে ক্যামেরা স্থাপন এবং গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কর্মীদের শরীরে বডি ক্যামেরা সংযুক্ত করার মতো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে যাত্রীরা আগের তুলনায় দ্রুত লাগেজ পাচ্ছেন। তার প্রতিবাদের সুফল সাধারণ যাত্রী ও প্রবাসীরা পাচ্ছেন।

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধে মামলা, রিমান্ডে নেওয়া এবং আদালত প্রাঙ্গণে তাকে যেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, তা দুঃখজনক। মামলা ও ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রতিবাদী কণ্ঠ স্তব্ধ করা যাবে না। বিরোধী দলের বিরুদ্ধে অপপ্রচার না চালিয়ে সরকারের উচিত জনগণের সমস্যা সমাধানে মনোযোগী হওয়া।

অনুষ্ঠানে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান বলেন, বিমানবন্দরে প্রবাসীদের হয়রানি ও অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদ করায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে গ্রেপ্তারের চেয়ে রিমান্ডে নেওয়া নিয়ে তার প্রশ্ন রয়েছে। রিমান্ডে তার চোখ বেঁধে জামায়াতে ইসলামীর সাংগঠনিক কার্যক্রম, নেতৃত্ব ও অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, একটি রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ ও জিজ্ঞাসাবাদ করার এখতিয়ার পুলিশকে কে দিয়েছে? কোনো অপরাধ সংঘটিত হলে পুলিশ তদন্ত করতে পারে, কিন্তু রাজনৈতিক দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়ে অনুসন্ধানের নামে জিজ্ঞাসাবাদ গ্রহণযোগ্য নয়।

আখতারুজ্জামান আরও বলেন, নিম্ন আদালতে জামিন না পাওয়ার পর উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেলেও বিষয়টি চেম্বার আদালতে নেওয়া হয়েছে। এভাবে আইনি ব্যবস্থা পরিচালনা করলে জনগণ তা মেনে নেবে না। দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় তারা প্রতিবাদ ও আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।

প্রবাসীদের কল্যাণে দলের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, তাদের সমস্যা সমাধানে কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রবাসীদের সুযোগ-সুবিধা ও অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের জন্য একটি রিসিপশন সেন্টার প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনাও রয়েছে।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে মুক্তিলাভের পর পাশে থাকা এবং সহযোগিতা করার জন্য জামায়াতে ইসলামী, দেশবাসী ও প্রবাসীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category