জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৭০ বছর বয়সী এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ও নার্সদের ওপর হামলার ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে। রোগীর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনের পাশাপাশি চিকিৎসক ও নার্সদের ওপর হামলা এবং শারীরিক নির্যাতনের সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
ঘটনার প্রকৃত চিত্র সামনে আনতে আবেগের পাশাপাশি প্রয়োজন তথ্য-প্রমাণ ও চিকিৎসাসংক্রান্ত নথিপত্রের যথাযথ পর্যালোচনা। জানা গেছে, ৭০ বছর বয়সী ওই রোগী গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ঢাকার একটি হাসপাতাল থেকে রেফার হয়ে জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন।
তাঁর শারীরিক অবস্থার প্রকৃত অবনতি কী কারণে হয়েছিল, কী কী জটিলতা নিয়ে তিনি হাসপাতালে ভর্তি হন, চিকিৎসার সময় চিকিৎসক ও নার্সরা কী ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছিলেন এবং শেষ পর্যন্ত তাঁর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ কী—এসব প্রশ্নের উত্তর বেরিয়ে আসা জরুরি।
চিকিৎসায় কোনো ধরনের অবহেলা বা দায়িত্বে গাফিলতি হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। একজন রোগীর জীবন অত্যন্ত মূল্যবান। তাই তাঁর মৃত্যুর ঘটনা কোনোভাবেই উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই চিকিৎসক ও নার্সদের দোষী সাব্যস্ত করা কিংবা তাঁদের ওপর হামলা ও শারীরিক নির্যাতন কোনো সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ক্ষোভ ও আবেগ থাকা স্বাভাবিক। কিন্তু সেই আবেগের বহিঃপ্রকাশ যদি চিকিৎসাসেবায় নিয়োজিত ব্যক্তিদের ওপর হামলা ও নির্যাতনের মাধ্যমে ঘটে, তাহলে তা কোনোভাবেই ন্যায়বিচারের পথ হতে পারে না। বরং এ ধরনের ঘটনা চিকিৎসাসেবার পরিবেশকে আরও ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিতে পারে।
সংশ্লিষ্টদের দাবি, হাসপাতালের চিকিৎসার নথিপত্র, রোগীর পূর্ববর্তী চিকিৎসার ইতিহাস, পরীক্ষার রিপোর্ট, চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণ এবং দায়িত্ব পালনকারী চিকিৎসক ও নার্সদের বক্তব্য পর্যালোচনা করে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে নার্সদের ওপর হামলা ও শারীরিক নির্যাতনের ঘটনাটিও তদন্ত করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনতে হবে।
আমাদের দাবি স্পষ্ট—রোগীর মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে। চিকিৎসায় অবহেলা প্রমাণিত হলে দায়ীদের শাস্তি দিতে হবে। পাশাপাশি নার্সদের ওপর হামলা ও নির্যাতনের ঘটনায় জড়িতদেরও বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।
কোনো পক্ষের প্রতি অন্ধ সমর্থন নয়, প্রয়োজন সত্যের প্রতি দায়বদ্ধতা। আবেগ নয়, তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই নির্ধারিত হোক দায় ও অপরাধী। ন্যায়বিচার নিশ্চিত হোক, নিরপরাধ কেউ যেন হয়রানি বা অন্যায়ের শিকার না হন।