• রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:২০ পূর্বাহ্ন
Headline
আঞ্চলিক আধিপত্যবাদের ষড়যন্ত্র এখনো শেষ হয়নি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ‘পোশাকশিল্পে সাময়িক অস্থিরতায় বিনিয়োগে প্রভাব পড়বে না’: সিলেটে বাণিজ্যমন্ত্রী রাজধানীতে এক রাতেই জোড়া বাসে আগুন: মিরপুরে বিহঙ্গ ও মহাখালীতে সোহাগ পরিবহনে অগ্নিসংযোগ ২১ বছর পর রাজপথের শোভাযাত্রায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: নয়াপল্টন থেকে মানিক মিয়া এভিনিউ লাখো নেতাকর্মীর ঢল ফ্রাঙ্কফুর্টে ইরানের ক্ষমতাচ্যুত শাহপুত্রের ‘স্বাধীনতা পুরস্কার’ গ্রহণ নিয়ে তীব্র বিতর্ক ও সমালোচনা ‘জিয়াউর রহমান দায়িত্ব না নিলে স্বাধীনতা অন্যের হাতে চলে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল’: বেলাবোতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার দিন: রুহুল কবির রিজভী ‘কোনো ডিসেম্বরেই দেশে আসার সুযোগ নেই, এলেও ফাঁসির মঞ্চ প্রস্তুত’: নোবিপ্রবিতে নাহিদ ইসলাম নারায়ণগঞ্জে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপন জিয়ার ছবি ছাড়া ব্যানার, পরে ‘বঙ্গবন্ধু’ সম্বোধন: জয়পুরহাটে তুলকালাম

বাজিতপুরে সংঘর্ষের অবসান, শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের আহ্বান; নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

ইকবাল খান, স্টাফ রিপোটার, বাজিতপুর, কিশোরগঞ্জ / ৫৭ Time View
Update : শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬

কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর পৌরসভার দড়িঘাগটিয়া, মথুরাপুর ও কৈলাগ ইউনিয়নের বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘটিত সংঘর্ষের অবসান হয়েছে। বর্তমানে এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিরাজ করছে। তবে সংঘর্ষের ঘটনায় আহতদের চিকিৎসা, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিভিন্ন সময়ে পৌর এলাকার কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দা ও কৈলাগ ইউনিয়নের মানুষের মধ্যে বিরোধ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার প্রভাব পড়েছে বাজিতপুর বাজারের ব্যবসায়িক পরিবেশেও। বিশেষ করে কৈলাগ রোড, বাঁশমহল ও সিএন্ডবি রোডের ব্যবসায়ীদের মধ্যে নিরাপত্তা ও ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ীর অভিযোগ, সংঘর্ষের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বাইরে সাধারণ ব্যবসায়ীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। অতীতের কিছু ঘটনায় কৈলাগ ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও মালামাল লুটের অভিযোগ রয়েছে। কুকরারাই গ্রামের একটি অটোরিকশার শোরুম থেকে বিপুল পরিমাণ মূল্যের গাড়ি লুট, কয়েকজন ব্যক্তিকে আহত করা এবং একটি গাড়িতে অগ্নিসংযোগের অভিযোগও করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা ও দায়ীদের শনাক্ত করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

সংঘর্ষ চলাকালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় উদ্যোগী ভূমিকা পালন করেন নিকলী-বাজিতপুরের বিএনপির অভিভাবক সৈয়দ এহসানুল হুদা এবং বাজিতপুর পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক মেয়র এহেসান কুফিয়াসহ স্থানীয় বিএনপির অন্যান্য নেতাকর্মী। তাদের প্রচেষ্টাসহ সংশ্লিষ্টদের উদ্যোগে পরিস্থিতি শান্ত হয়ে আসে।

পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর নেতৃবৃন্দ বিভিন্ন হাসপাতালে গিয়ে সংঘর্ষে আহত ব্যক্তিদের খোঁজখবর নেন এবং তাদের চিকিৎসার বিষয়ে অবগত হন। এ সময় আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করা হয়।

এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখায় পুলিশ প্রশাসনের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

সচেতন মহলের মতে, কোনো ব্যক্তি বা নির্দিষ্ট কয়েকজনের সঙ্গে বিরোধের জেরে যেন অন্য কোনো গ্রামের সাধারণ মানুষ কিংবা ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে। ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর অপরাধের দায় সামগ্রিকভাবে কোনো এলাকা বা জনগোষ্ঠীর ওপর চাপানো উচিত নয়।

তারা আরও মনে করেন, সাম্প্রতিক ও অতীতের সংঘর্ষের ঘটনাগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করা জরুরি। তদন্তে যাদের বিরুদ্ধে অপরাধের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাবে, তাদের পরিচয় বা সামাজিক অবস্থান বিবেচনা না করে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

সবশেষে বাজিতপুর পৌরসভা ও কৈলাগ ইউনিয়নের সর্বস্তরের মানুষের প্রতি শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান বজায় রেখে বাজিতপুর বাজারের স্বাভাবিক ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনার আহ্বান জানানো হয়েছে।

পাশাপাশি সংঘর্ষে আহত সকলের দ্রুত আরোগ্য কামনা করে ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহনশীলতা ও সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category