নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
দীর্ঘ ১৭ বছরের ষড়যন্ত্র ও আধিপত্যবাদের অবসান ঘটলেও আঞ্চলিক আধিপত্যবাদী শক্তির ষড়যন্ত্র এখনো শেষ হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, দেশে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাজনীতির পুনরুত্থান ঘটেছে এবং তাদের সেবাদাস ও পুতুল সরকার এখন প্রভুদের কাছেই আশ্রয় নিয়েছে; তাই ষড়যন্ত্র বন্ধ হয়ে যাবে—এমনটি ভাবার কোনো সুযোগ নেই।
শনিবার (৭ নভেম্বর) ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে রাজধানীর অফিসার্স ক্লাবে আয়োজিত এক আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আঞ্চলিক প্রভুরা বুঝতে পেরেছেন, বাংলাদেশে জিয়াউর রহমানের রাজনীতির পুনরুত্থান ঘটেছে। ফলে সব বাধা ও ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে।”
পূর্ববর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, সে সময় ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করার প্রবণতা দেখা গিয়েছিল। যমুনার ভেতরে ও বাইরে পৃথক পক্ষ অবস্থান নিয়ে সংস্কার ও বিচারের নামে নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার চক্রান্ত করছিল। সে সময় রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে প্রয়োজনীয় আলোচনা ও সমঝোতার ঘাটতি ছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কেবল ৩৬ দিনের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে এই অভ্যুত্থান আসেনি। গুম হওয়া ব্যক্তিদের অনেকেই এখনো ফিরে আসেননি, এম ইলিয়াস আলীও ফেরেননি। তাঁদের পরিবারগুলোর দীর্ঘ অপেক্ষা ও ত্যাগের মধ্য দিয়েই ওই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশের স্বাধীনতার কৃতিত্ব যেমন একক কোনো ব্যক্তির নয়, তেমনি চব্বিশের অভ্যুত্থানের কৃতিত্বও কারও একার হতে পারে না। যারা এর একক মালিকানা দাবি করছেন, তারা নিজেদের রাজনৈতিক পরিসরকে সীমাবদ্ধ করছেন। ইতিহাস সম্পর্কে যাদের ধারণা নেই, তাদের সঙ্গে বিতর্ক করাও অর্থহীন।”
সিভিল সার্ভিসের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট নির্দেশ দিয়ে বলেন, সরকারি কর্মকর্তাদের কোনো বিশেষ রাজনৈতিক দলের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শনের প্রয়োজন নেই; তাঁদের মূল ও একমাত্র দায়িত্ব হলো দেশ ও জনগণের সেবা করা। অতীতে ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে রাজনৈতিক চাপ বা লোভে পড়ে যারা দায়িত্ব পালন করেছেন, তাদের ভূমিকার কারণে দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
নির্বাচন ব্যবস্থার সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির মতো আরও এক-দুটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে দেশের নির্বাচনব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিশুদ্ধ হয়ে উঠবে এবং এর মাধ্যমেই প্রকৃত গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার যাত্রা টেকসই হবে। বর্তমান সরকার পাঁচ বছর পরপর জনগণের সরাসরি ভোটে সরকার নির্বাচিত হওয়ার নীতিতে বিশ্বাসী উল্লেখ করে তিনি বলেন, “পৃথিবীতে কেউ চিরস্থায়ী নয়, কোনো সরকারও নয়। ৫১ শতাংশ মানুষ যাদের পক্ষে রায় দেবেন, কেবল তারাই রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পাবেন।”
