২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ শুরু হতে আর এক মাসও বাকি নেই। অথচ বাংলাদেশে দর্শকরা ম্যাচগুলো দেখতে পারবেন কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনও কাটেনি। রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) এখনও সম্প্রচার স্বত্ত্ব নিশ্চিত করতে পারেনি। নিশ্চিত করেনি কোনো বেসরকারি টিভি চ্যানেল বা ওটিটি প্ল্যাটফর্মও।
বেসরকারী টিভি চ্যানেল নাগরিক টিভির প্রোগ্রাম প্রধান কামরুজ্জামান বাবু দেশের শীর্ষস্থনীয় একটি পত্রিকাকে বলেন, সম্প্রচার স্বত্ত্ব না কিনলে বাংলাদেশে দর্শকরা ম্যাচ দেখতে পারবেন না। “কারণ বিদেশি চ্যানেলগুলো অনুমোদিত দেশের বাইরে সম্প্রচার করতে পারে না। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে কেউ বিশ্বকাপের স্বত্ত্ব কেনেনি।”
২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য বাংলাদেশে সম্প্রচার ত্বত্ত্ব রয়েছে সিঙ্গাপুরভিত্তিক কোম্পানি স্প্রিংবক-এর কাছে। স্থানীয় সম্প্রচারকদের সেই কোম্পানির কাছ থেকে স্বত্ত্ব কিনতে হবে।
বিটিভি সূত্রে জানা গেছে, স্প্রিংবক প্রায় ১৫১ কোটি টাকা দাবি করেছে, করসহ মোট খরচ দাঁড়াবে প্রায় ২০০ কোটি টাকা। শর্ত অনুযায়ী, ১০ মে’র মধ্যে ৫০ শতাংশ এবং ১০ জুনের মধ্যে বাকি অর্থ পরিশোধ করতে হবে। প্যাকেজে রয়েছে উদ্বোধনী ও সমাপনী অনুষ্ঠানসহ ১০৪টি ম্যাচের সরাসরি সম্প্রচার ও হাইলাইটস।
ব্যয় দেখে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় বিটিভিকে ফিফার সঙ্গে যোগাযোগ করে বিনামূল্যে সম্প্রচারের অনুমতি চাইতে পরামর্শ দেয়। বিটিভি এপ্রিলের শেষ নাগাদ ফিফাকে দুটি ইমেইল পাঠালেও কোনো জবাব পায়নি।
গত ৪ মে রয়টার্স-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, চীন ও ভারতও সম্প্রচার স্বত্ত্ব নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছে, কারণ তাদের সঙ্গেও এখনও চুক্তি হয়নি।
আগামী ১১ জুন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে শুরু হতে যাচ্ছে ফিফা বিশ্বকাপের ২৩তম আসর।
শেষ রাতে খেলা হওয়ার কারণে অতিরিক্ত দামে সম্প্রচার স্বত্ত্ব কিনতে চাইছে না ভারত চীন ও বাংলাদেশ। এই জটিলতা না কাটলে বিশ্বকাপ দেখা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন পৃথিবীর এক তৃতীয়াংশ মানুষ।
সম্প্রচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভোরের দিকে ম্যাচ হওয়ায় দর্শক সংখ্যা কম থাকবে। এতে বিনিয়োগ করে টাকা ফেরত পাওয়া নিয়ে বড় ধরনের ব্যবসায়িক ঝুঁকি দেখছেন তারা।