ইরান-ইসরাইল ও মার্কিন উত্তেজনা সাময়িকভাবে স্থগিত হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজারে ইতিবাচক পরিবর্তনের আভাস দেখা যাচ্ছে। যুদ্ধ পরিস্থিতির চাপ কমে আসায় মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে নতুন উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশি দক্ষ ও অদক্ষ কর্মীদের চাহিদাও দ্রুত বাড়ছে।
সরকারের পক্ষ থেকে শ্রমবাজার সম্প্রসারণে জোরালো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়কে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। সেই নির্দেশনায় প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী নতুন শ্রমবাজার খোঁজা ও বিদ্যমান বাজারকে আরও গতিশীল করতে কাজ করছেন।
এদিকে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্সেও ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মে মাসের প্রথম ১৭ দিনেই দেশে এসেছে ২১৭ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১২ কোটি ৮১ লাখ ডলার দেশে পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে বৈধ পথে অর্থ পাঠানো বৃদ্ধি পাওয়ায় এই প্রবৃদ্ধি হয়েছে।
বাংলাদেশ থেকে নতুন কর্মী নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। কাতারের শ্রমমন্ত্রী ড. আলী বিন সামিখ আল মাররি বাংলাদেশ সফর করে চার ক্যাটাগরির কর্মী নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে ইলেকট্রিশিয়ান, প্লাম্বার, এসি টেকনিশিয়ান ও ওয়েল্ডিং খাতের দক্ষ কর্মীদের প্রতি তাদের আগ্রহ বেশি। বর্তমানে কাতারে প্রায় ৪ লাখ ৭৩ হাজার বাংলাদেশি কর্মরত রয়েছেন।
অন্যদিকে দুবাই ট্যাক্সি কোম্পানি চলতি বছর বাংলাদেশ থেকে নতুন করে ৬ হাজার দক্ষ ড্রাইভার নিয়োগ দেবে বলে জানিয়েছে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ-কোরিয়া কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে চালক নিয়োগের ইন্টারভিউ শুরু হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির তথ্যমতে, বর্তমানে তাদের অধীনে প্রায় ৮ হাজার বাংলাদেশি চালক কাজ করছেন এবং দক্ষতার কারণে বাংলাদেশিরা অগ্রাধিকার পাচ্ছেন।
এছাড়া দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর মালয়েশিয়াও বাংলাদেশি কর্মী নেওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। এতে নতুন করে কর্মসংস্থানের আশা দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফিরে এলে যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে পুনর্গঠন কাজ শুরু হবে এবং সেখানে বিপুল সংখ্যক অভিবাসী শ্রমিকের প্রয়োজন হবে। এজন্য এখন থেকেই দক্ষ জনশক্তি তৈরির পাশাপাশি জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও ইউরোপের দেশগুলোতেও নতুন শ্রমবাজার খুঁজতে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
তবে অবৈধ পথে বিদেশ যাত্রা বন্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, বৈধ শ্রমবাজার সম্প্রসারণ এবং অভিবাসন ব্যয় কমানো গেলে দেশের তরুণদের ঝুঁকিপূর্ণ পথে বিদেশ যাওয়ার প্রবণতা কমবে এবং রেমিট্যান্স প্রবাহ আরও বৃদ্ধি পাবে।