জীববৈচিত্র্য রক্ষায় দেশে জিন পুল গঠনের তাগিদ বিশেষজ্ঞদের
জীববৈচিত্র্য দিবস ডেস্ক.
/ ১২
Time View
Update :
শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬
Share
জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং পরিবেশ রক্ষায় বাংলাদেশে জরুরি ভিত্তিতে বিভিন্ন অঞ্চলে ‘জিন পুল’ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, দ্রুত আবাসস্থল ধ্বংস, জলবায়ু পরিবর্তন, বন উজাড় ও শিল্প দূষণের কারণে দেশের বহু উদ্ভিদ ও প্রাণী প্রজাতি অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে জিনগত বৈচিত্র্য সংরক্ষণে জিন পুল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বাংলাদেশ বন বিভাগের সাবেক প্রধান বন সংরক্ষক ইশতিয়াক উদ্দিন আহমেদ বলেন, দেশের জীববৈচিত্র্য বর্তমানে নানা ঝুঁকির মুখে রয়েছে। তাই বিভিন্ন অঞ্চলে জিন পুল প্রতিষ্ঠা করা এখন সময়ের দাবি।
জীববৈচিত্র্য আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, জিন পুল হলো কোনো নির্দিষ্ট আন্তঃপ্রজননক্ষম প্রাণী, উদ্ভিদ বা কীটপতঙ্গের সব ধরনের জিনগত উপাদানের সমষ্টি। এটি একটি প্রজাতির সামগ্রিক জিনগত বৈচিত্র্যকে ধারণ করে এবং প্রাকৃতিক নির্বাচন ও বিবর্তনের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।
বাংলাদেশে ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব ন্যাচার (আইইউসিএন)-এর প্রোগ্রাম ম্যানেজার (স্পিসিজ অ্যান্ড হ্যাবিট্যাটস) এবিএম সরওয়ার আলম বলেন, দেশের অনেক প্রজাতি সংকরায়নের শিকার হচ্ছে এবং বিভিন্ন বন্যপ্রাণী ও উদ্ভিদ বিলুপ্তির ঝুঁকিতে রয়েছে। তাই জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে জিন পুল গঠন অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
তিনি মেছো কুমির বা ঘড়িয়ালের উদাহরণ দিয়ে বলেন, বাংলাদেশের নদীতে ঘড়িয়াল পাওয়া গেলেও ভারত এটিকে নিজেদের প্রজাতি হিসেবে দাবি করে। বাংলাদেশের নিজস্ব জিন পুল থাকলে এ ধরনের প্রজাতির উৎস ও মালিকানা সম্পর্কে বৈজ্ঞানিকভাবে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হতো।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বন উজাড়, জলাভূমি ধ্বংস এবং অতিরিক্ত প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণের ফলে দেশের জীববৈচিত্র্য দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে। আইইউসিএন বাংলাদেশের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে স্তন্যপায়ী, পাখি, সরীসৃপ ও উভচর প্রাণীর ১৫৬টি প্রজাতি ঝুঁকির মুখে রয়েছে। এছাড়া প্রায় ১০ শতাংশ উদ্ভিদ প্রজাতি বিলুপ্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সুন্দরবন ও চট্টগ্রাম পাহাড়ি অঞ্চলেও মাছ ও বন্যপ্রাণীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে বলে জানিয়েছে আইইউসিএন।
ইশতিয়াক উদ্দিন বলেন, পর্যাপ্ত জনবল, কার্যকর আইন প্রয়োগ এবং প্রকৃতি সংরক্ষণে দৃঢ় উদ্যোগের অভাবে বনাঞ্চল ধ্বংস ও অবক্ষয় অব্যাহত রয়েছে। তিনি বন ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গীকার নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
তিনি আরও বলেন, স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত না করে প্রকৃতি সংরক্ষণ সম্ভব নয়। এজন্য এমন পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যাতে স্থানীয় মানুষ নিজেরাই বন ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এগিয়ে আসে। একই সঙ্গে তাদের জন্য প্রণোদনামূলক কর্মসূচি চালু এবং ক্ষমতায়নের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
জীববৈচিত্র্য রক্ষায় মনোকালচার বা একক প্রজাতির চাষ সীমিত করার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, পুরোপুরি বন্ধ করা কঠিন হলেও প্রয়োজন অনুযায়ী এটি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।
আগামী ২২ মে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্র্য দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নানা কর্মসূচি পালিত হবে। এবারের প্রতিপাদ্য ‘স্থানীয় উদ্যোগ, বৈশ্বিক প্রভাব’, যা কমিউনিটি-নেতৃত্বাধীন উদ্যোগের মাধ্যমে প্রকৃতি সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরছে।