• সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ০৯:২৯ অপরাহ্ন
Headline
সারাদেশে হাম ও হামের উপসর্গে আরও ১৭ জনের মৃত্যু লিবিয়া থেকে দেশে ফিরল আরো ১৭০ বাংলাদেশি : পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় টাঙ্গাইলে কালিহাতীতে ট্রাক উল্টে নিহত ১০ জনের বাড়ি নওগাঁ রাজধানীর পশুর হাট, বাড়ছে ক্রেতা-বিক্রেতার ভিড় জমে উঠেছে  দেশে ২ কোটির বেশি শিশুকে হামের টিকার আওতায় আনা হয়েছে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী শত বঞ্চনার মাঝেও যিনি শুনিয়েছেন মানবমুক্তির গান : জাতীয় কবি  প্রেসিডেন্ট-প্রধানমন্ত্রী থাকবেন : ঈদের প্রধান জামাত সাড়ে ৭টায় জামায়াত আমির এবার মক্কায় ঈদ করবেন  মার্কিন আলোচনা ব্যর্থ হলে সর্বোচ্চ কঠোর জবাব দেবে ইরান রাষ্ট্রীয় ও কৌশলগত সর্বোচ্চ নেতার অনুমোদন ছাড়া সিদ্ধান্ত নেবে না ইরান 

টাঙ্গাইলে কালিহাতীতে ট্রাক উল্টে নিহত ১০ জনের বাড়ি নওগাঁ

টাঙ্গাইল ডেস্ক. / ৬ Time View
Update : সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬

 

টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে রড বোঝাই ট্রাক উল্টে নিহতদের মধ্যে ১০ জনের নাম ও পরিচয় পাওয়া গেছে।

নিহতরা নওগাঁর মান্দা উপজেলার ভারশোঁ ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা। তাদের মধ্যে রাজেন্দ্রবাটি গ্রামেরই সাতজন রয়েছেন।

একই সময়ে সাতজনের মৃত্যুর খবরে ভারশোঁ ইউনিয়নের রাজেন্দ্রবাটি গ্রামে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজনদের আহাজারি ও বুকফাটা কান্নায় পুরো এলাকা ভারি হয়ে উঠেছে। স্থানীয় লোকজন নিহতদের বাড়িতে গিয়ে স্বজনদের সান্ত্বনা দিচ্ছেন।

নিহতরা হলেন, উপজেলার রাজেন্দ্রবাটি গ্রামের তারেক জিয়া (২১), বাদশা মিয়া (৩০), আব্দুল বারিক (২০), সোহাগ হোসেন (২১), রবিউল ইসলাম (২৮), মাইনুর ইসলাম (৩০), সাগর হোসেন (২০), পাকুড়িয়া গ্রামের সহোদর মাইনুর রহমান (২৫) ও গিয়াস উদ্দিন (২২) এবং মশিদপুর গ্রামের সুজন আলী (৩৫)।

জানা গেছে, নিহতরা সবাই ফেরিওয়ালা ছিলেন। তারা সাইকেলে করে বাড়ি বাড়ি ঘুরে প্লাস্টিকের তৈরি বিভিন্ন পণ্য বিক্রি করতেন। পাশাপাশি নারীদের চুল ও পুরোনো মোবাইল ফোন সংগ্রহের কাজও করতেন।

জীবিকার তাগিদে তারা দীর্ঘদিন ধরে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার উত্তর নাজিরপুর কলোনিতে ভাড়া বাসায় থেকে ব্যবসা পরিচালনা করছিলেন। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে তারা রাজশাহীগামী একটি রড বোঝাই ট্রাকে করে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে তাদের মৃত্যু হয়।

রাজেন্দ্রবাটি গ্রামের ফিরোজ হোসেন জানান, উত্তর নাজিরপুর কলোনিতে এ এলাকার শতাধিক যুবক বছরজুড়ে হরেক পণ্যের ব্যবসা করেন। ঈদের সময় বাসে বাড়ি ফিরতে জনপ্রতি ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকা গুনতে হয়। অতিরিক্ত ভাড়া এড়াতে অনেকেই পণ্যবাহী ট্রাকে যাতায়াত করেন। তারাও একইভাবে ট্রাকে করে বাড়ি ফিরছিলেন।

হঠাৎ দুর্ঘটনায় স্বামীকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন নিহত বাদশা মিয়ার স্ত্রী সাবিনা খাতুন। একমাত্র মেয়ে রাহী মনিকে নিয়ে বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছেন তিনি। তাকে সান্ত্বনা দিতে গিয়ে স্বজনরাও কান্না থামাতে পারছেন না।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে সাবিনা খাতুন বলেন, বাড়ি ফেরার পথে স্বামীর সঙ্গে কয়েকবার কথা হয়েছে। মেয়ের জন্য নতুন জামা আর মেহেদী কেনার কথাও বলেছিল। রাত ১০টার দিকে শেষ কথা হয়। সকালে তার মৃত্যুর খবর পাই।

নিহত তারেকের বাবা সুলতান হোসেন কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, তারা নোয়াখালী এলাকায় ফেরি করে মানুষের ফেলে দেয়া চুল বাঁচানো, ভাঙা মোবাইল ও ছোট ছোট প্লাস্টিকের খেলনা বিক্রি করতো। ঈদের ছুটিতে বন্ধুবান্ধব মিলে সবাই এক সঙ্গে বাড়ি আসছিল। ফেনী থেকে তারা ট্রাকে যাত্রা শুরু করে।

এ বিষয়ে মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোরশেদ আলম বাসসকে বলেন, দুর্ঘটনায় নিহত সবার পরিচয় এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। নিহতদের পরিচয় শনাক্তে কাজ করছে পুলিশ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা