বিশ্ব শান্তিরক্ষী দিবসে শান্তিরক্ষীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানালো জাতিসংঘ
অনলাইন ডেস্ক
/ ২৮
Time View
Update :
শনিবার, ৩০ মে, ২০২৬
Share
বিশ্ব শান্তিরক্ষী দিবস উপলক্ষে বিশ্বব্যাপী দায়িত্ব পালনরত ৫০ হাজারেরও বেশি শান্তিরক্ষীকে সম্মান জানিয়েছে জাতিসংঘ। একই সঙ্গে বৈশ্বিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় আত্মনিয়োগকারী এবং দায়িত্ব পালনকালে জীবন উৎসর্গকারী শান্তিরক্ষীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছে সংস্থাটি। বর্তমানে জাতিসংঘের বিভিন্ন শান্তিরক্ষা মিশনে চার হাজারেরও বেশি বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী দায়িত্ব পালন করছেন।
প্রতি বছর ২৯ মে পালিত বিশ্ব শান্তিরক্ষী দিবস উপলক্ষে জাতিসংঘ বিশ্বের সংঘাতপূর্ণ ও অস্থির অঞ্চলে কর্মরত শান্তিরক্ষীদের নিষ্ঠা, সাহস ও আত্মত্যাগের স্বীকৃতি দিয়েছে।
বাংলাদেশে জাতিসংঘ কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, শান্তিরক্ষীদের দায়িত্ব পালন বিশ্বব্যাপী শান্তি ও স্থিতিশীলতায় আরও বেশি বিনিয়োগের প্রয়োজনীয়তাকে সামনে নিয়ে এসেছে। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, তাদের কাজ শান্তিতে বিনিয়োগের গুরুত্বকে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরেছে।
দিবসটি উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে জাতিসংঘ মহাসচিব António Guterres বলেন, বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ৫০ হাজারেরও বেশি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মোতায়েন রয়েছেন। তারা বেসামরিক জনগণকে সুরক্ষা দিচ্ছেন এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।
তিনি বলেন, নিজ দেশ থেকে বহু দূরে বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় দায়িত্ব পালন করে শান্তিরক্ষীরা সংঘাতরত পক্ষগুলোর মধ্যে উত্তেজনা প্রশমিত করা, মানবিক সহায়তা পৌঁছানো, নির্বাচন আয়োজনের সহায়তা এবং রাজনৈতিক সমাধানের পরিবেশ তৈরিতে অবদান রাখছেন।
মহাসচিব অতীত ও বর্তমানের সকল শান্তিরক্ষীর প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তিনি ১৯৪৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত দায়িত্ব পালনকালে নিহত প্রায় সাড়ে চার হাজার শান্তিরক্ষীর স্মৃতির প্রতিও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এর মধ্যে গত বছরই প্রাণ হারিয়েছেন ৫৯ জন শান্তিরক্ষী।
তিনি বলেন, “শান্তির জন্য কাজ করতে গিয়ে কারও মৃত্যু কাম্য নয়।”
শান্তিরক্ষীদের ওপর হামলাকে আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করে সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে জাতিসংঘ কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।
মহাসচিব শান্তিরক্ষা কার্যক্রমকে স্থিতিশীলতা ও আশা পুনঃপ্রতিষ্ঠার একটি পরীক্ষিত এবং সাশ্রয়ী উপায় হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তিনি টেকসই রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও নির্ভরযোগ্য আর্থিক সহায়তার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এ বছরের বিশ্ব শান্তিরক্ষী দিবসের প্রতিপাদ্য “শান্তিতে বিনিয়োগ”। এ প্রতিপাদ্যের আলোকে শান্তিরক্ষীদের কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালনের জন্য প্রয়োজনীয় সম্পদ ও সহায়তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ।
মহাসচিব বলেন, “শান্তিরক্ষায় বিনিয়োগ মানে নিরাপদ ভবিষ্যতে বিনিয়োগ। যারা শান্তি প্রতিষ্ঠাকে সম্ভব করে তুলছেন, তাদের প্রতি আমাদের সমর্থন অব্যাহত রাখা উচিত।”
জাতিসংঘ জানিয়েছে, দায়িত্ব পালনের সময় শান্তিরক্ষীরা নিয়মিত নানা ঝুঁকির মুখোমুখি হন। তাদের নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা বাড়াতে গৃহীত পদক্ষেপগুলো আরও শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেছে সংস্থাটি।
দিবসটি উপলক্ষে আগামী ৫ জুন জাতিসংঘ সদর দপ্তরে শান্তিরক্ষী স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। একই দিনে দায়িত্ব পালনকালে নিহত শান্তিরক্ষীদের স্মরণে বিশেষ কর্মসূচি আয়োজন করা হবে।
এছাড়া নিহত কর্মীদের মরণোত্তর ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদক প্রদান অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন তিনি। অনুষ্ঠানে “জাতিসংঘ সামরিক জেন্ডার অ্যাডভোকেট অব দ্য ইয়ার” এবং “জাতিসংঘের বর্ষসেরা নারী পুলিশ কর্মকর্তা” পুরস্কারও প্রদান করা হবে।
দিবসটি উপলক্ষে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল জাঁ-পিয়ের লাক্রোয়ার।