চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় একটি নতুন কারাগার স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। তবে এ নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়া উচ্ছেদের আশঙ্কা ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এখনই কাউকে উচ্ছেদ করা হবে না।
রোববার দুপুরে জঙ্গল সলিমপুর এলাকা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, একটি কুচক্রী মহল সাধারণ মানুষের মাঝে উচ্ছেদের গুজব ছড়াচ্ছে। তবে জঙ্গল সলিমপুর ও আশপাশের এলাকাকে অবশ্যই সন্ত্রাসমুক্ত করা হবে। এখানে আর কোনো বিচ্ছিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর অভয়ারণ্য থাকতে দেওয়া হবে না বলেও তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
তিনি জানান, গত ১৭ বছর ধরে আলীনগর-জঙ্গল সলিমপুর এলাকা সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে পরিচিত। পরিকল্পিত ও যৌথ অভিযানের মাধ্যমে এই অঞ্চলকে পুরোপুরি সন্ত্রাসমুক্ত করা হবে। পাশাপাশি বেতুয়া ও চা-বাগান এলাকাতেও অভিযান চালিয়ে সন্ত্রাসীদের নির্মূল করা হবে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সারাদেশে মাদক, সন্ত্রাস, জুয়া ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই চারটি অপরাধকে অগ্রাধিকার দিয়ে মোকাবিলা করা হবে এবং নির্মূলে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
জুয়া নিয়ন্ত্রণে বিদ্যমান আইনের সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ১৮৬৭ সালের পুরোনো আইনের মাধ্যমে আধুনিক অনলাইন ও অফলাইন জুয়া বা বেটিং কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং আগামী সংসদ অধিবেশনেই এ সংক্রান্ত সংস্কার আনার চেষ্টা করা হবে।
মাদক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনের বিষয়েও তিনি বলেন, মাদকসংক্রান্ত মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। বর্তমানে হাজার হাজার মামলা দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে আছে, যা নতুন আইনি কাঠামোর মাধ্যমে দ্রুত নিষ্পত্তি করা সম্ভব হবে।
কিশোর গ্যাংয়ের ক্রমবর্ধমান তৎপরতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিদ্যমান আইনের ফাঁকফোকর ব্যবহার করে অনেক কিশোর অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে এবং পরবর্তীতে তারা সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসীতে রূপ নিচ্ছে। এ কারণে কিশোর অপরাধ দমনে আইনি সংস্কার জরুরি।
তিনি আরও বলেন, ‘আইনি সংস্কার, পরিকল্পিত অভিযান ও সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে দেশকে মাদক, সন্ত্রাস, জুয়া ও চাঁদাবাজিমুক্ত করার চেষ্টা করা হবে। এর মাধ্যমে যুবসমাজকে রক্ষা করা সম্ভব হবে।’
পরিদর্শনকালে মন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির, বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী, বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দিন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, র্যাবসহ বিভিন্ন সরকারি সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।