ঢাকা, প্রতিনিধি:
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশে সনদনির্ভর শিক্ষার পরিবর্তে দক্ষতাভিত্তিক, প্রযুক্তিনির্ভর এবং কর্মমুখী শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি বলেছেন, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও অটোমেশনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শিক্ষাক্রমকে আধুনিক ও সময়োপযোগী করা জরুরি।
রোববার সকালে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র-এ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজিত ‘কর্মমুখী ও টেকনিক্যাল শিক্ষা বিষয়ে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ’ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ সময়ের রাজনৈতিক সংকট ও শাসনব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গণতান্ত্রিক পরিবেশে এখন শিক্ষা খাতকে পুনর্গঠন করে একটি জ্ঞানভিত্তিক রাষ্ট্র ও সমাজ গড়ে তোলার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
তিনি বলেন, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে শিক্ষার্থীদের জ্ঞান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, প্রোগ্রামিং, ডিজিটাল উদ্যোক্তা উন্নয়ন, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, ন্যানো প্রযুক্তি এবং ফাইভ-জি প্রযুক্তির মতো বিষয়গুলো শিক্ষা কারিকুলামে অন্তর্ভুক্ত করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকার প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের দুই হাজারের বেশি অধিভুক্ত কলেজে ৪০ লাখেরও বেশি শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণে প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে।
উচ্চশিক্ষিতদের বেকারত্ব কমাতে এপ্রেন্টিসশিপ, ইন্টার্নশিপ এবং শিল্প-শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। বিভাগীয় শহরগুলোতে প্রাথমিকভাবে এসব কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, যাতে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার পাশাপাশি ব্যবহারিক দক্ষতা অর্জন করতে পারে।
তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে উদ্ভাবনী ব্যবসায়িক ধারণার জন্য ‘সিড ফান্ডিং’ ও ‘ইনোভেশন গ্র্যান্ট’ চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে তরুণরা শুধু চাকরি খোঁজার পরিবর্তে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে সক্ষম হবে।
প্রযুক্তিগত শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, একজন মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে নৈতিকতা, মানসিক স্বাস্থ্য, সামাজিক অন্তর্ভুক্তি ও পরিবেশ সচেতনতার বিকল্প নেই।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি তৃতীয় একটি ভাষায় দক্ষতা অর্জন করতে পারলে দেশে ও বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ আরও বৃদ্ধি পাবে।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. এ এস এম আমানুল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা ও প্রাথমিক গণশিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন, শিক্ষা সচিব আবদুল খালেক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান বক্তব্য রাখেন।