ঢাকা, প্রতিনিধি:
রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ড মামলার রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেছেন, রাষ্ট্রযন্ত্রের সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থার সক্রিয় ও সমন্বিত ভূমিকার কারণেই অল্প সময়ের মধ্যে এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।
রোববার আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণার পর নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, “রাষ্ট্রযন্ত্রের সবাই অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন বলেই দ্রুততম সময়ের মধ্যে আমরা এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সুবিচার পেয়েছি।”
তিনি জানান, বিচারিক আদালতের দেওয়া রায়ের ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন সংক্রান্ত নথি) হাইকোর্টে পৌঁছানোর পর আইন অনুযায়ী তা শুনানির জন্য প্রস্তুত করা হবে। দ্রুততম সময়ে শুনানির ব্যবস্থা করতে রাষ্ট্রপক্ষ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। এ ক্ষেত্রে প্রধান বিচারপতির বিশেষ নির্দেশনার প্রয়োজন হতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এর আগে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন। পাশাপাশি সোহেল রানাকে ৫ লাখ টাকা এবং স্বপ্না আক্তারকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, গত ১৯ মে রাজধানীর পল্লবীর একটি ফ্ল্যাট থেকে আট বছর বয়সী রামিসার খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর অভিযুক্ত সোহেল রানা পালিয়ে গেলেও একই দিন নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বাসা থেকে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আটক করা হয়েছিল।
পরবর্তীতে ২০ মে আদালতে উভয় আসামি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। ১ জুন তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়। সাক্ষ্যগ্রহণ, আত্মপক্ষ সমর্থন ও যুক্তিতর্ক শেষে আদালত দ্রুত বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন করে রায় ঘোষণা করেন।
আলোচিত এই মামলার দ্রুত বিচার ও রায়কে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, তদন্ত সংস্থা এবং বিচার বিভাগের সমন্বিত কার্যক্রমের একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।