ঢাকা, প্রতিনিধি:
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, গণমাধ্যম রাষ্ট্র, সমাজ ও আধুনিক সভ্যতার এক অপরিহার্য আয়না। সমাজ ও রাষ্ট্রকে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে বস্তুনিষ্ঠতা ও তথ্য যাচাইয়ের কার্যকর ব্যবস্থা ছাড়া কোনো গণমাধ্যমের পক্ষে বিশ্বস্ততা অর্জন সম্ভব নয়।
রোববার সকালে রাজধানীর পল্টনে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) মিলনায়তনে ‘ব্যাংকখাতে সুশাসন ও গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, গণমাধ্যমের ভেতরে যদি গুণগত ত্রুটি থাকে, তাহলে তা সমাজ ও রাষ্ট্রের সঠিক প্রতিচ্ছবি তুলে ধরতে পারে না। তাই গণমাধ্যমের প্রধান শক্তি হতে হবে বস্তুনিষ্ঠতা এবং তথ্য যাচাইয়ের সংস্কৃতি।
তিনি বলেন, রাষ্ট্র, সমাজ ও ব্যাংকিং খাতে সুশাসন পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কাঠামোয় সুশাসন প্রতিষ্ঠিত না হলে ব্যাংকিং খাতে টেকসই সুশাসন নিশ্চিত করাও কঠিন হয়ে পড়ে।
ব্যাংকিং খাতের সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, প্রশাসন, গণমাধ্যম ও দুর্নীতি দমন ব্যবস্থার সংস্কারের পাশাপাশি ব্যাংকিং খাতের ত্রুটি ও দুর্বলতা দূর করতে সরকার ভবিষ্যতে একটি ‘ব্যাংকিং কমিশন’ গঠনের উদ্যোগ নেবে।
তিনি অর্থনৈতিক উন্নয়নে পুঁজিবাজারকে শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, দেশের অর্থনীতিতে ব্যাংকিং খাতের পাশাপাশি শেয়ারবাজারকেও দীর্ঘমেয়াদি পুঁজির প্রধান উৎস হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে আমানতকারী ও ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের স্বার্থবিরোধী অনিয়ম কঠোরভাবে দমন করতে হবে।
সাংবাদিকদের তথ্যপ্রাপ্তির অধিকার প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠানের কোন তলায় সাংবাদিক প্রবেশ করতে পারলেন, সেটি মুখ্য বিষয় নয়; মূল বিষয় হলো তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করা। তথ্য যেখানেই থাকুক, সাংবাদিকদের সেখানে পৌঁছানোর সুযোগ থাকতে হবে।
তিনি অর্থনৈতিক সাংবাদিকদের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, ব্যাংকিং খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় অর্থনৈতিক সাংবাদিকতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। জনগণের জানার অধিকার নিশ্চিত করতে সাংবাদিকদের অনুসন্ধানী ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা অব্যাহত রাখতে হবে।
ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসি (ইউসিবি)-এর সহযোগিতায় আয়োজিত সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন ইআরএফ সভাপতি দৌলত আকতার মালা এবং সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংক, পুঁজিবাজার, ব্যাংকিং খাত ও গণমাধ্যমের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন।