দেশে অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য আরও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তিনি বলেছেন, “প্রত্যেকের জন্য এমন সুযোগ-সুবিধা তৈরি করা হবে, যাতে তারা সহজে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারেন এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারেন। সেই লক্ষ্য সামনে রেখেই এবারের বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।”
বুধবার বিকেলে জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে কুমিল্লা-১০ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার কোনো বিকল্প নেই। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার বিনিয়োগ প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং ব্যবসা সম্প্রসারণে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
তিনি জানান, আমদানি ও রপ্তানি প্রধান নিয়ন্ত্রকের দপ্তরের মাধ্যমে এখন সম্পূর্ণ অনলাইন পদ্ধতিতে দ্রুততম সময়ে আমদানি ও রপ্তানি নিবন্ধন সম্পন্ন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে রপ্তানি নীতি হালনাগাদ করা হয়েছে এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য বাজারে প্রবেশ সহজ করতে ‘আমদানি নীতি আদেশ ২০২৬-২০২৯’ আধুনিকায়নের কাজ চলছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য বিদ্যমান অশুল্ক বাধা দূর করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বন্ডেড ও নন-বন্ডেড প্রতিষ্ঠানের জন্য এফওসি ভিত্তিক আমদানির সুযোগ আরও সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।
আমদানি প্রক্রিয়া সহজ করতে মূল্য পরিশোধ ব্যবস্থাও শিথিল করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখন থেকে মূল্যসীমা নির্বিশেষে সকল আমদানিকারক এলসি ছাড়াই সরাসরি চুক্তির মাধ্যমে পণ্য আমদানির সুযোগ পাবেন।
বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘদিনের প্রাতিষ্ঠানিক জটিলতা দূর করতে সরকার বড় ধরনের কাঠামোগত সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেবা প্রদানের দক্ষতা বৃদ্ধি ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমাতে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা), পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ অথরিটি (পিপিপিএ) এবং বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষকে একীভূত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মূলধন ও মুনাফা নিজ দেশে ফেরত নেওয়ার ক্ষেত্রে বিদ্যমান জটিলতা দূর করতেও সরকার কাজ করছে বলে জানান তিনি। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সমন্বয়ে গঠিত ‘মূলধন প্রত্যাবর্তন-সংক্রান্ত জাতীয় কমিটি’ একগুচ্ছ সংস্কার প্রস্তাব তৈরি করেছে, যা বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিনিয়োগ কার্যক্রম আরও দ্রুত, সহজ ও পূর্বানুমানযোগ্য করতে লাইসেন্সিং এবং বিভিন্ন অনুমোদন প্রক্রিয়ায় ব্যাপক সংস্কার আনা হচ্ছে।
এর আগে বিকেল ৩টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদের বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকের প্রথম ৩০ মিনিট প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারকা চিহ্নিত তিনটি প্রশ্নের উত্তর দেন এবং বিভিন্ন সংসদ সদস্যের সম্পূরক প্রশ্নেরও জবাব দেন।