বিগত স্বৈরাচারী সরকারের আমলে প্রকৌশলী মো: আব্দুল মজিদ ডিপিডিসিতে সবচেয়ে বেশি কাজ করলেও বিভিন্নভাবে নিগৃহীত হয়েছেন। জৈষ্ঠতার ভিত্তিতে কোন প্রকার পদোন্নতি পাননি, বদলীতে বাঁধা প্রদান, এমনকি ছাত্রদলের ট্যাগ লাগিয়ে নানা প্রকার হয়রানি ও রোষানলের শিকার হতে হয়েছে তাকে। ইএসপি এসএন(জি টু জি) প্রকল্প হতে এনওসিএস সার্কেলে বদলির আবেদন করেও কোন লাভ হয়নি। এক সময়ে ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদে থাকার কারণেই নাকি তাকে সবকিছু থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১৯৮৯ সালে মোঃ আব্দুল মজিদ কলেজ জীবনে প্রথম ছাত্রদলের যোগদান করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদে নির্বাচিত হন। সে সময়ে তিনি ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৯ সালে তিনি বিআরইবিতে এজিএম হিসেবে চাকরি জীবন শুরু করেন। ২০০৮ সালে ডিপিডিসি‘র বাণিজ্যিক পরিচালন শুরুর সময় প্রকৌশলী মোঃ আব্দুল মজিদ বিআরইবি থেকে ডিপিডিসিতে ২৬/৬/২০০৮ সালে যোগদান করেন। তাকে ডিস্ট্রিবিউশন প্ল্যানিং নর্থ এ পদায়ন করা হয়। তিনিই প্রথম একটি ১৫ মিটার পোলে ৪টি (১টি ৩৩ কেভিন,2 টি ১১ কেভি ও ১টি ০.৪১৫ কেভি) সার্কিট ডিজাইন ও পরিকল্পনা করেন। যে পরিকল্পনার মাধ্যমে তৎকালীন আর এন্ড এ প্রকল্প এর আওতায় প্রথম আসাদ এভিনিউ, কামরাঙ্গীরচর প্রধান সড়ক ও আজিমপুর মোড় হতে বেরিবাধ বরাবর ১৫ মিটার পোল স্থাপন করা হয়। ফলে স্বল্প জায়গায় সরু রাস্তা দিয়েও চারটি সার্কিট নির্মাণের মধ্য দিয়ে গ্রাহকের বর্ধিত বৈদ্যুতিক চাহিদা মিটানোর সুযোগ সৃষ্টি হয়। প্রকৌশলী মো: আব্দুল মজিদ ২০১৩ ও ২০১৫ সালে জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী এসোসিয়েশন অফ ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ পেশাজীবী সংগঠনের প্যানেলে ইন্সটিটিউশন অফ ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (আইইবি)তে নির্বাচন করেন এবং জয় লাভ করেন। ২০১৫ সাল হতে ফ্যাসিস্ট সরকারের প্রকৌশলীরা একতরফা বুথ দখল এবং সংস্কৃতি চালু করায় এইবি আর পরবর্তীতে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেনি। এত কিছুর মধ্যেও ২০১৫ সালে নির্বাচনে জয় লাভ করায় প্রকৌশলী মো: আব্দুল মজিদ সরকারের রোষানলে পড়েন। তাকে ২০১৫ সালে প্ল্যানিং থেকে রিনিউয়েবল এনার্জি এন্ড রিচার্স দপ্তরে তারপর স্ক্যাডা এবং প্রশিক্ষণ দপ্তরে বদলি করা হয়। ২০১৭ সালের এপ্রিল মাসে তাকে শীতলক্ষা এনওসিএস এ পদায়ন করা হয়। সেখানে তিনি ১৬ মাস কাজ করার সুযোগ পান। দিন ও রাতে (অবৈধ সংযোগ উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে) কাজ করে ১৬ মাসে সিস্টেম লস ৮.০২ থেকে ৩.৯৭ এ নামিয়ে আনেন। ঘূর্ণিঝড় তিতলি ১১-১০-২০১৮ তারিখে দুপুর আনুমানিক বারোটায় সময় ঢাকার আঘাত হানে। বিকেল তিনটার মধ্যে সকল ফিডার চালু করে তিনি সকলকে অবাক করে দেন। তিনি সরেজমিন পরিদর্শন করে লাইনের ত্রুটি খুঁজে পরিকল্পিতভাবে লাইন রক্ষণাবেক্ষণ করার কারণে এমনটি করতে পেরেছিলেন। তারপর তাকে পুনরায় প্ল্যানিং দপ্তরে প্রদায়ন করা হয়। ২০২১ সালে জৈষ্ঠতার ভিত্তিতে নিয়মানুসায়ী তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রদান কালে তাকে নারিন্দা এনওসিএস দপ্তরের পদায়ন করা হয়। সেখানে প্রায়শই আগুন লাগতো। তিনি বিতরণ লাইন রক্ষণাবেক্ষণ, বিতরণ ট্রান্সফরমার গুলোতে আর্থিং করা, ডিওএফসি স্থাপন এবং কিছু ঝুকিপূর্ণ ট্রান্সফরমারে এমসিসিবি স্থাপন করে নিরবিচ্ছিন্ন মানসম্মত বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা করেন । একই সাথে বৈদ্যুতিক পোল হতে ডিস ইন্টারনেট এর জঞ্জাল মুক্ত করে বিতরণ লাইনগুলো নিরাপদ করেন। সেখানে তিনি মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের বকেয়া আদায়ের ডিপিসিডি‘র ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেন এবং ২১৮ জন ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের সরকারি রিবেট বাদ দেন। এ কারণে কোন অভিযোগ ডিপিডিসিকে মোকাবেলা করতে হয়নি,কারণ ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের কোন প্রমাণাদি ছিল না। ২০২১ সালে পদোন্নতি ভাইবায় জৈষ্ঠতার ক্রমিকে মো: আব্দুল মজিদের অবস্থান ছিল চার এ। সে সময়ের ছয়জনকে পদোন্নতি প্রদান করা হয় কিন্তু প্রকৌশলী মোঃ আব্দুল মজিদকে পদোন্নতি হতে বঞ্চিত করে নিয়ম ভঙ্গের মাধ্যমে ফ্যাসিস্ট প্রকৌশলীদের পদোন্নতি প্রদান করা হয়। শুধুমাত্র এসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স ( এইবি) পেশাজীবী সংগঠনের সাথে যুক্ত থাকায় তাকে পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত করা হয়। এভাবে একজন জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী দেশপ্রেমিক ও কাজের প্রতি আন্তরিক প্রকৌশলীর উপরে ফ্যাসিস্ট আমলে খড়গ নেমে আসে। মো: আব্দুল মজিদ ২৬-০৯- ২০২৩ তারিখ হতে ডিপিডিসির অভিযোগ নিস্পত্তি কর্মকর্তা (অনিক) হিসেবে অত্যান্ত আন্তরিকভাবে গ্রাহকদের সকল প্রকার অভিযোগ নিরসন করেছেন। ফলে ডিপিডিসি‘র ভাবমূর্তি ও সেবার মান গ্রাহকদের নিকট বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২৪ এর গণঅভ্যুত্থানের পরে নভেম্বর ২৪ এ তাকে জিটুজি প্রকল্পে স্কোপ কমানোর জন্য বদলি করা হয়। ডিস্কোপিং এর পরে তিনি প্রকল্প থেকে অন্যত্র বদলির জন্য ডিপিডিসি‘র কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানান। ডিপিডিসি কর্তৃপক্ষ তাকে লিখিত আবেদনের জন্য পরামর্শ দেন। ৮ ই মে ২০২৫ তারিখে তিনি লিখিত আবেদন করলেও আজ পর্যন্ত তার বন্দী করা হচ্ছে না। বিষয়টি ডিপিডিসি‘র মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।