• বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:৩৯ পূর্বাহ্ন
Headline
প্রবাসীদের অধিকার রক্ষায় কাজ করার অঙ্গীকার প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধা ১০১ টিমের শিক্ষার্থীদের আনন্দময় শিক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়েছে : শিক্ষামন্ত্রী সমাজের সবাই এগিয়ে এলে বড় সমস্যার সমাধান সম্ভব: প্রধানমন্ত্রী ধ্বংসস্তূপ থেকে দেশকে পুনর্গঠন করা হচ্ছে : ৬ মাস পূর্তিতে কারাগারে বন্দি ইমরান খানের স্বাস্থ্যের অবনতি চীনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ঝু রংজির প্রতি শ্রদ্ধা পুনর্নির্বাচিত হাকাইন্দে হিচিলেমা : জাম্বিয়ায় ৬০ শতাংশ ভোট পেয়ে  আইসিসি জরিমানা ও শাস্তির মুখে অস্ট্রেলিয়া ‘হোয়াইটওয়াশ’ মিরাজের স্বপ্ন  ৩ দিনে ১০০ কোটির রেকর্ড : ‘আওয়ারাপান-২’

বাংলাদেশে বড় বিনিয়োগের সম্ভাবনা দেখছে যুক্তরাষ্ট্র, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ইউএসবিবিসির বৈঠক

একুশে সংবাদ ডেস্ক / ২১ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬
বিনিয়োগ সম্ভাবনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ইউএস–বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের নেতারা।। ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়ানো, ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিধি সম্প্রসারণ এবং দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদারের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের (ইউএসবিবিসি) ৫০ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

প্রতিনিধি দলে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় ২৫টি কোম্পানির প্রায় ৫০ জন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা অংশ নেন। জ্বালানি, প্রযুক্তি, কৃষি, ডিজিটাল অর্থনীতি, স্বাস্থ্যসেবা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, উন্নত উৎপাদন ও আর্থিক খাতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশে বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে তারা আলোচনা করেন।

বৈঠকে প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন এক্সিলারেট এনার্জির এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট ও চিফ কমার্শিয়াল অফিসার অলিভার সিম্পসন এবং ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের সভাপতি ও ইউএস চেম্বার অব কমার্সের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট রাষ্ট্রদূত (অব.) অতুল কেশপ।

প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন জানান, বাংলাদেশে মার্কিন বিনিয়োগ আরও বাড়ানো, ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও স্থিতিশীল ও দীর্ঘমেয়াদি করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

প্রতিনিধিদলের নেতা অতুল কেশপ বলেন, বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে মার্কিন কোম্পানিগুলো গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। এসব কোম্পানি ব্যবস্থাপনা, প্রযুক্তি ও ব্যবসায়িক সক্ষমতার মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে অবদান রাখছে। ভবিষ্যতেও তারা বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও প্রয়োজনীয় জ্ঞান নিয়ে বাংলাদেশের উন্নয়নে অংশীদার হতে আগ্রহী বলে জানান তিনি।

বৈঠকে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক পরিকল্পনা এবং ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার লক্ষ্য নিয়েও আলোচনা হয়। অতুল কেশপ বলেন, এই লক্ষ্য অর্জনে বেসরকারি খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। মার্কিন কোম্পানিগুলো বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও কারিগরি জ্ঞান দিয়ে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় সহায়তা করতে পারে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

প্রতিনিধি দলে এক্সিলারেট এনার্জি, শেভরন, মেটা, ভিসা, মেটলাইফ, বোয়িং, উবার, অ্যাপল, সিসকো, এইচএসবিসি ও স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা রয়েছেন।

গত ১১ আগস্ট প্রতিনিধি দলটি ঢাকায় আসে। তিন দিনের সফরে তারা বাংলাদেশের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী, উপদেষ্টা ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করে। সফরের শেষ দিনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের মাধ্যমে তারা বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণের বিষয়ে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেন।

বাংলাদেশে বিনিয়োগের পরিবেশ নিয়ে মার্কিন ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের ইতিবাচক আগ্রহকে দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে জ্বালানি, প্রযুক্তি, কৃষি, স্বাস্থ্য, ডিজিটাল অর্থনীতি ও আর্থিক খাতে নতুন বিনিয়োগ এলে কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি প্রযুক্তি হস্তান্তর ও উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে এখন শুধু বিনিয়োগের আগ্রহ যথেষ্ট নয়; বরং নীতির ধারাবাহিকতা, দ্রুত অনুমোদন, অবকাঠামোগত সুবিধা, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ, দক্ষ জনবল এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করাই হবে পরবর্তী বড় চ্যালেঞ্জ। মার্কিন কোম্পানিগুলোর বর্তমান আগ্রহকে বাস্তব বিনিয়োগে রূপ দিতে এসব ক্ষেত্রে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

এদিকে, মার্কিন বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ বাড়ানোর সম্ভাবনাকে বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক রূপান্তরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এ সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে নতুন বিনিয়োগের পাশাপাশি কর্মসংস্থান, প্রযুক্তি, রপ্তানি এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category