মাদকমুক্ত ও শিশু-কিশোরবান্ধব পরিবেশ গড়তে দেশব্যাপী কার্যক্রম চলছে
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশের খেলার মাঠ ও পার্কগুলো পুনরুদ্ধার, আধুনিকায়ন এবং মাদকমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার দেশব্যাপী বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে।
সোমবার জাতীয় সংসদে সরকারি দলের সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য নিলুফার চৌধুরী মনির কার্যপ্রণালী বিধির ৭১ বিধিতে উত্থাপিত জরুরি জনগুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।
নিলুফার চৌধুরী মনি বলেন, রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরের খেলার মাঠ ও পার্ক একসময় শিশু-কিশোরদের খেলাধুলা এবং বয়স্কদের বিনোদনের প্রধান স্থান ছিল। কিন্তু বর্তমানে অনেক মাঠ ও পার্ক মাদকসেবী, বখাটে, অবৈধ দখলদার ও হকারদের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। কোথাও বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড, কোথাও কাঁচাবাজার, আবার কোথাও স্থাপনা নির্মাণের কারণে মাঠগুলোর স্বাভাবিক ব্যবহার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
তিনি সংসদে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ১২৯টি ওয়ার্ডে মোট ২৩৫টি খেলার মাঠ থাকলেও কার্যকরভাবে উন্মুক্ত রয়েছে মাত্র ৪২টি মাঠ। অর্থাৎ মোট মাঠের মাত্র ১৮ শতাংশ সাধারণ মানুষের ব্যবহারের উপযোগী। এছাড়া গত কয়েক বছরে রাজধানী থেকে ১২৬টি খেলার মাঠ হারিয়ে গেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
খেলার মাঠকে নগরের ‘ফুসফুস’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, শিশুদের সুস্থ শারীরিক ও মানসিক বিকাশে মাঠ ও পার্কের বিকল্প নেই। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মোবাইল ও প্রযুক্তিনির্ভর জীবন থেকে বের করে আনতে মাঠ ও পার্ক সংরক্ষণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
জবাবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, সংসদ সদস্যের উত্থাপিত অধিকাংশ তথ্যই বাস্তবসম্মত। তিনি জানান, অতীতে রাজনৈতিক ও অন্যান্য কারণে দেশের অনেক মাঠ ও উন্মুক্ত স্থান দখল হয়ে গিয়েছিল। বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই এসব স্থান পুনরুদ্ধার করে জনগণের জন্য উন্মুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে।
মন্ত্রী জানান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের আওতায় ২৫৬টি পার্ক ও খেলার মাঠের উন্নয়ন ও পুনরুদ্ধার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। গুলিস্তানের শহীদ মতিউর রহমান পার্ককে হকার ও অপরাধমুক্ত করে আধুনিক পার্কে রূপান্তর করা হয়েছে। পাশাপাশি মতিঝিল পার্ক, নবাবগঞ্জ পার্ক, রসুলবাগ মাঠ, খিলগাঁও-বাসাবো মাঠ, সাদেক হোসেন খোকা মাঠ, হাজারীবাগ পার্ক এবং আমলীগোলা খেলার মাঠসহ বিভিন্ন স্থানে উন্নয়নকাজ চলছে।
তিনি আরও জানান, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের আওতায় ৩৮টি পার্ক ও মাঠ আধুনিকায়ন করে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। একইসঙ্গে নিয়মিত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। চট্টগ্রাম ও খুলনা সিটি কর্পোরেশনেও পর্যায়ক্রমে পার্ক ও মাঠ উন্নয়ন এবং পরিবেশ সংরক্ষণ কার্যক্রম বাস্তবায়িত হচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনায় বর্তমানে প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যায় থেকে আন্তঃস্কুল ফুটবল ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ব্যাপকভাবে আয়োজন করা হচ্ছে, যা তৃণমূল পর্যায়ে খেলাধুলার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
পরবর্তীতে সম্পূরক প্রশ্নে মাঠ ও পার্কে মাদকসেবীদের উপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মাদককে একটি বড় সামাজিক ব্যাধি হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় মাদক ব্যবসায়ী ও সেবীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে শুধু আইন প্রয়োগের মাধ্যমে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়; এজন্য প্রয়োজন সামাজিক সচেতনতা ও জনসম্পৃক্ততা।
তিনি বলেন, যুবসমাজ, সামাজিক সংগঠন এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে সম্পৃক্ত করে মাদকের বিরুদ্ধে একটি বৃহৎ সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে। সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের মাঠ ও পার্কগুলোকে দখলমুক্ত, নিরাপদ ও শিশু-কিশোরবান্ধব পরিবেশে পরিণত করা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।