বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহে কোনো বড় ধরনের সংকট না থাকলেও মধ্যস্বত্বভোগীদের অতিরিক্ত মুনাফা এবং কৃষিপণ্য পরিবহনে চাঁদাবাজির কারণে ভোক্তাদের বাড়তি দাম গুনতে হচ্ছে। গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) বলছে, উৎপাদক থেকে ভোক্তার হাতে পৌঁছাতে চালের দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যায়।
বৃহস্পতিবার রাজধানীতে আয়োজিত এক সংলাপে সিপিডি তাদের এ গবেষণা প্রতিবেদন তুলে ধরে। গবেষণায় চাল, আলু, পেঁয়াজসহ ১০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করা হয়। এ জন্য দেশের ৮১০টি বাজার পরিদর্শন করা হয়েছে।
গবেষণায় বলা হয়, উৎপাদক থেকে ভোক্তার কাছে পৌঁছানোর পথে একাধিক ধাপে মধ্যস্বত্বভোগীরা অতিরিক্ত মুনাফা করছেন। ফলে বাজারে পণ্যের পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলেও সাধারণ মানুষকে বেশি দামে পণ্য কিনতে হচ্ছে।
সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন বলেন, চাল উৎপাদক থেকে ভোক্তার হাতে পৌঁছাতে পাঁচটি ধাপ অতিক্রম করে। এ সময় প্রতি কেজি চালের দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যায়। এর মধ্যে মিল মালিকরাই প্রতি কেজিতে সর্বোচ্চ প্রায় ১৮ টাকা মুনাফা করেন। এছাড়া ডাল ও কাঁচামরিচের ক্ষেত্রে শহরের আড়তদাররা এবং আলু ও বেগুনের ক্ষেত্রে খুচরা বিক্রেতারা তুলনামূলক বেশি মুনাফা করেন।
সংলাপে উপস্থিত বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, কৃষিপণ্য পরিবহনে চাঁদাবাজির মতো অদৃশ্য ব্যয় মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর নেতিবাচক প্রভাব সমাজের সব শ্রেণির মানুষের ওপর পড়ছে। তিনি পণ্য পরিবহনে চাঁদাবাজির বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, এটি বন্ধে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কৃষির উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর সভাপতি এ এইচ এম সফিকুজ্জামান বলেন, বাজারে অস্থিরতার অন্যতম কারণ পরিবহন খাতে চাঁদাবাজি। তাঁর দাবি, শুধু চাঁদাবাজির কারণেই অনেক ক্ষেত্রে নিত্যপণ্যের দাম প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়।
সংলাপে বক্তারা বাজার ব্যবস্থাপনায় কার্যকর নজরদারি বাড়ানো, মধ্যস্বত্বভোগীদের অযৌক্তিক মুনাফা নিয়ন্ত্রণ এবং কৃষিপণ্য পরিবহনে চাঁদাবাজি বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। তাঁদের মতে, এসব সমস্যা সমাধান করা গেলে বাজারে পণ্যের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখা এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হবে।