বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট দাবি করেছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছিলেন “ইতিহাসের নিকৃষ্টতম ও ঘৃণ্য ফ্যাসিস্ট”। তিনি আরও বলেন, পৃথিবীর বিভিন্ন ফ্যাসিস্ট শাসকের সঙ্গে শেখ হাসিনার মৌলিক পার্থক্য রয়েছে।
বুধবার (৫ আগস্ট) রাজধানীর গুলশানে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ও গত ১৭ বছরের আন্দোলনের আলোকচিত্র প্রদর্শনী পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, ইতিহাসে নাৎসি নেতা অ্যাডলফ হিটলার ও ইতালির বেনিতো মুসোলিনির মতো ফ্যাসিস্ট শাসকেরা জাতিগত নিপীড়ন ও গণহত্যার মতো ভয়াবহ অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তবে তার দাবি, তারা নিজেদের রাষ্ট্রকে শক্তিশালী করার চেষ্টা করেছিলেন।
তিনি অভিযোগ করেন, শেখ হাসিনার শাসনামলে অর্থ পাচার, ব্যাংক খাতের অনিয়ম, শেয়ারবাজারে দুর্নীতি এবং সরকারি সম্পদ দখলের মতো ঘটনা ঘটেছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতেই তিনি শেখ হাসিনাকে “ইতিহাসের নিকৃষ্টতম ও ঘৃণ্য ফ্যাসিস্ট” বলে অভিহিত করেন।
রিজভীর ভাষ্য, রাজনৈতিক প্রতারণার মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে “ফ্যাসিবাদী শাসন” প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং ক্ষমতা ধরে রাখতে বিরোধীদের ওপর দমন-পীড়ন চালানো হয়েছে।
তিনি আরও দাবি করেন, ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সাল এবং ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন সময় শিক্ষার্থী, সাংবাদিক, শ্রমজীবী মানুষসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ রাজনৈতিক সহিংসতার শিকার হয়েছেন।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থান প্রসঙ্গে বিএনপির এই নেতা বলেন, এটি ছিল জনগণের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ও প্রতিরোধের বহিঃপ্রকাশ। তার দাবি, জনগণের শক্তিকে উপেক্ষা করেই শেখ হাসিনা সরকার বারবার নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় টিকে থাকার চেষ্টা করেছে।
রিজভী বলেন, গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার যে প্রত্যাশা রয়েছে, তা বাস্তবায়নে দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অতীতের মতো ভবিষ্যতেও ভূমিকা রাখবেন।
উল্লেখ্য, রুহুল কবির রিজভীর এসব বক্তব্য তার রাজনৈতিক মন্তব্য ও অভিযোগ। এ বিষয়ে প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
বাসস