নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
ঢাকার ক্রমবর্ধমান বিশুদ্ধ পানির চাহিদা ও সংকট মোকাবিলায় ডেনমার্কের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান।
তিনি বলেন, পানি সরবরাহ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন সহায়তার ক্ষেত্রে ডেনমার্ক বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী হতে পারে। বিশেষ করে বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদনের ক্ষেত্রেও দেশটির বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে।
মঙ্গলবার স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত ক্রিশ্চিয়ান ব্রিক্স মোলারের সঙ্গে বৈঠককালে তিনি এসব কথা বলেন। বৈঠকে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও ডেনমার্কের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার, পানি সরবরাহ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে ডেনমার্কের বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকের শুরুতে ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করায় স্থানীয় সরকারমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান এবং দুই দেশের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদারের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান বলেন, বাংলাদেশের পানি সরবরাহ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে ডেনমার্ক কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। ঢাকার ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা ও নগরায়ণের কারণে বিশুদ্ধ পানির চাহিদা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। এ ক্ষেত্রে টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার জরুরি।
বৈঠকে সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার প্রকল্পের তৃতীয় ধাপে ডেনমার্কের অর্থায়ন ও সহযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। প্রকল্পটিতে ডেনমার্ক সরকার মোট সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা অর্থায়ন করবে। এর মধ্যে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা অনুদান এবং ৩ হাজার কোটি টাকা স্বল্পসুদে ঋণ হিসেবে দেওয়ার কথা রয়েছে।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার প্রকল্পের তৃতীয় ধাপে ডেনমার্কের সহযোগিতা সরকারের জন্য একটি বড় সাফল্য। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে রাজধানীতে ক্রমবর্ধমান বিশুদ্ধ পানির চাহিদার চাপ অনেকাংশে কমানো সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, নিরাপদ ও পর্যাপ্ত পানি সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে সরকার আন্তর্জাতিক সহযোগিতাকে কাজে লাগাতে চায়।
বৈঠকে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান, ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আমিনুল ইসলামসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।