আগামী ৫ সেপ্টেম্বরের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে সফল করতে দেশবাসী, প্রশাসন, রাজনৈতিক দল ও গণমাধ্যমের সহযোগিতা চেয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার। একই সঙ্গে বড় এই কর্মসূচির কারণে কোথাও সাময়িক জনভোগান্তি হলে আগাম দুঃখ প্রকাশ করেছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘এটি একটি শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক রাজনৈতিক কর্মসূচি। কোনো ধরনের উসকানির সুযোগ না দিয়ে লংমার্চ সফল করা হবে।’ কর্মসূচিতে সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতাও কামনা করেন তিনি।
তিনি জানান, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, জ্বালানি ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং প্রশাসনের সর্বস্তরে দলীয়করণ বন্ধ—এই ছয় দফা দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্য এ লংমার্চের আয়োজন করছে। এতে জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানসহ ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা অংশ নেবেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, আগামী ৫ সেপ্টেম্বর সকাল ৭টায় ঢাকার শাপলা চত্বর থেকে লংমার্চ শুরু হবে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক হয়ে কর্মসূচিটি চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দানে গিয়ে শেষ হবে। পথে মহাসড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পথসভা অনুষ্ঠিত হবে।
তিনি জানান, লংমার্চে এক হাজারের বেশি যানবাহন অংশ নিতে পারে। ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত বিভিন্ন জেলা, উপজেলা ও মহানগর এলাকার নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষ এতে অংশ নেবেন বলে তারা আশা করছেন।
কর্মসূচি সফল করতে ইতোমধ্যে বিভিন্ন বাস্তবায়ন কমিটি ও উপকমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানান জামায়াতের এই নেতা। অভ্যর্থনা, চিকিৎসা, পরিবহন, প্রচার ও প্রকাশনা, তথ্যপ্রযুক্তি, স্বেচ্ছাসেবক, সংস্কৃতি এবং প্রশাসনিক যোগাযোগসহ বিভিন্ন বিভাগের দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে। কর্মসূচির প্রস্তুতি নিয়ে দফায় দফায় বৈঠকও অনুষ্ঠিত হচ্ছে বলে জানান তিনি।
তার দাবি, লংমার্চকে ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ও উৎসাহ-উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, লংমার্চ শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল রাখতে ২৪ আগস্ট সন্ধ্যায় পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে ১১ দলীয় ঐক্যের বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে লংমার্চের রুট, পথসভা এবং কর্মসূচির বিভিন্ন স্থান সম্পর্কে প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে।
সাধারণ মানুষের চলাচলে যাতে কম বিঘ্ন ঘটে, সে জন্য সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, মহাসড়কের এক অংশ দিয়ে লংমার্চের বহর পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। অন্য অংশ দিয়ে সাধারণ যানবাহন চলাচল অব্যাহত রাখার চেষ্টা করা হবে।
তবে এত বড় কর্মসূচির কারণে কোথাও সাময়িক ভোগান্তি হতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তাই আমরা দেশবাসীর কাছে অগ্রিম ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।’
প্রেস ব্রিফিংয়ে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মো. সেলিম উদ্দিন এবং ঢাকা মহানগরী উত্তরের প্রচার ও মিডিয়া সেক্রেটারি আতাউর রহমান সরকারসহ দলটির অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।