• শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৪৬ পূর্বাহ্ন
Headline
গোপালগঞ্জে টিউশনি শেষে বাড়ি ফেরার পথে কলেজছাত্রকে পিটিয়ে হত্যা নীলফামারীতে শিশু শ্রম হ্রাসে সচেতনতামূলক বাইসাইকেল র‌্যালী গাইবান্ধায় অসুস্থ গরু জবাইয়ের পর অ্যানথ্রাক্সের লক্ষণ, আক্রান্ত ৩৫ মুন্সিরহাটের ছাতিয়ানী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন সভাপতি আহসান উল্লাহ মোল্লা স্বজনকে আনতে ঢাকায়, ফেরার পথে লাশ হয়ে ফিরলেন দুই যুবক গাবুরায় ভূমি অফিসের নাম ভাঙিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগে মানববন্ধন ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অত্যাধুনিক তিন বিশেষায়িত ইউনিট চালু সরকার বিরোধী দলের কথা না শুনলে আন্দোলন চলবে—শফিকুর রহমান নিরাপদ ও টেকসই বিশ্ব গড়ার আহ্বান তারেক রহমানের আবারও চালু ভোটার স্থানান্তর কার্যক্রম

নিরাপদ ও টেকসই বিশ্ব গড়ার আহ্বান তারেক রহমানের

অনলাইন ডেস্ক / ২৪ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য সুলভ অর্থায়ন নিশ্চিতের তাগিদ

অনলাইন ডেস্ক :
ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আরও নিরাপদ ও টেকসই বিশ্ব গড়ে তুলতে বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমিত রাখা, জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য সুলভ ও পূর্বানুমেয় অর্থায়ন নিশ্চিত এবং জলবায়ু-স্মার্ট প্রযুক্তিতে প্রবেশাধিকার বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি।

জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসের উদ্যোগে আয়োজিত ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড দ্য জাস্ট ট্রানজিশন’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের সভায় বুধবার স্থানীয় সময় বিকেলে জাতিসংঘ সদরদপ্তরের ট্রাস্টিশিপ কাউন্সিলে বক্তব্য দেওয়ার সময় এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, ‘আসুন, আমরা একসঙ্গে কাজ করি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আরও নিরাপদ ও টেকসই ভবিষ্যৎ গড়ে তুলি।’

জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশের ঝুঁকি

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের মোট গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে বাংলাদেশের অবদান শূন্য দশমিক ৫ শতাংশেরও কম। অথচ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ দেশ।

তিনি বলেন, এই শতাব্দীর শেষ নাগাদ সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার ১২ থেকে ১৮ শতাংশ পানিতে তলিয়ে যেতে পারে। এতে কোটি কোটি মানুষের জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি দেশের খাদ্যনিরাপত্তাও গুরুতর ঝুঁকির মুখে পড়বে।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের প্রায় ১ শতাংশের সমপরিমাণ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, চলতি বছরের বাজেটে জলবায়ু অভিযোজনের জন্য প্রায় ৩ দশমিক ১৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক সহায়তা ছাড়া বাংলাদেশ বড় ধরনের ক্ষতির ঝুঁকি এড়াতে পারবে না।

পাঁচ জরুরি পদক্ষেপ

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বিশ্বনেতাদের প্রতি পাঁচটি জরুরি পদক্ষেপের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

প্রথমত, প্যারিস চুক্তিতে নির্ধারিত বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস সীমা বজায় রাখতে বিশ্বব্যাপী গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমাতে হবে।

দ্বিতীয়ত, জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য অভিযোজন খাতে পূর্বানুমেয় ও সুলভ অর্থায়ন নিশ্চিত করতে হবে।

তৃতীয়ত, জলবায়ু-স্মার্ট প্রযুক্তিতে আরও বেশি প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করে ন্যায্য ও সমতাভিত্তিক জলবায়ু উত্তরণের পথ তৈরি করতে হবে।

চতুর্থত, সুলভ অর্থায়ন, সক্ষমতা বৃদ্ধি ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণ করতে হবে।

পঞ্চমত, ক্ষয়ক্ষতি ও লোকসান তহবিলের পূর্ণ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিয়মিতভাবে এ তহবিল পুনঃপূরণের আহ্বান জানান তিনি।

২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা

বাংলাদেশের নিজস্ব জলবায়ু উদ্যোগ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পানি সংরক্ষণ, বন্যার ঝুঁকি হ্রাস, জলাভূমি পুনরুজ্জীবন ও ভূগর্ভস্থ পানির পুনর্ভরণের লক্ষ্যে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খননের কাজ চলছে।

পদ্মা ব্যারাজ ও তিস্তা ব্যারাজের মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়নের কাজও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

২০৩০ সালের মধ্যে দেশের বিদ্যুতের চাহিদার ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে পূরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পাটজাত পণ্য, পরিবেশবান্ধব পরিবহন, বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদন ও চক্রাকার অর্থনীতির উদ্যোগসহ সবুজ শিল্পের প্রসারে সরকার কাজ করছে। একই সঙ্গে জাতীয় কার্বন বাজার গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এককভাবে বাংলাদেশের পক্ষে এসব লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়। ‘অভিন্ন কিন্তু পৃথক দায়িত্ব ও নিজ নিজ সক্ষমতা’ নীতির ভিত্তিতে সম্মিলিত পদক্ষেপ এখন অপরিহার্য।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ তার জলবায়ু পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সহায়তা করবে—এমন কার্যকর অংশীদারত্ব প্রত্যাশা করে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে বর্তমানে নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন। ২৪ সেপ্টেম্বর সাধারণ বিতর্কে বাংলাদেশের পক্ষে বক্তব্য দেবেন তিনি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category